
কক্সবাজারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে টাস্কফোর্সের সফল অভিযান
কক্সবাজারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের জন্য গঠিত টাস্কফোর্সে প্রথম ৪০ দিনে ব্যাপক সফলতা এসেছে। ১৫ জুলাই থেকে চলতি সময়ে অভিযান চালিয়ে জব্দ করা হয়েছে ২১ লাখ ৭৯ হাজার ৪৮৩ পিস ইয়াবা, প্রায় দেড় হাজার লিটার দেশি মদ, ৩৮ কেজি গাঁজা, ৭৩৫ ক্যান বিয়ার এবং আড়াই কেজির বেশি ক্রিস্টাল মেথ। একই সঙ্গে গ্রেফতার হয়েছেন ৩৪৭ জন মাদক ব্যবসায়ী।
গতকাল কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা টাস্কফোর্সের কার্যক্রম ও অগ্রগতি তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে টাস্কফোর্সের সদস্য সচিব এবং কক্সবাজার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সোমেন মন্ডল জানান, “বাংলাদেশে মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন ঠেকাতে সরকার কক্সবাজারে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় মাদক চক্র ভেঙে দিতে ইতোমধ্যেই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।”
টাস্কফোর্স গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সোমেন মন্ডল বলেন, চলতি বছরের ১৪ জুলাই কক্সবাজার বিয়াম আঞ্চলিক কেন্দ্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এক বৈঠকে টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ কক্সবাজার এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের জন্য টাস্কফোর্স’ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।
তিনি জানান, এই টাস্কফোর্স তিনটি কৌশলে কাজ করছে—
১. আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত অভিযান জোরদার করা,
২. সমাজে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি করা, এবং
৩. মাদক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমার থেকে নিয়মিত ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক কক্সবাজারে প্রবেশ করছে। পাহাড়ি ও উপকূলীয় অঞ্চল, সড়ক, রেল ও সমুদ্রপথের কারণে জেলা দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানকারীদের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত।
সোমেন মন্ডল বলেন, “কেবল আইন প্রয়োগ নয়, সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি ও তরুণদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”