
নবীনগরে বালু উত্তোলন বন্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ডিসিকে লিগ্যাল নোটিশ
মেঘনা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসককে (ডিসি) লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
গতকাল সোমবার (২৫ আগস্ট) ডাক ও ই-মেইলের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. সোলায়মান (তুষার) নরসিংদীর রায়পুরার মির্জারচর গ্রামের বাসিন্দা মোশারফ হোসেনের পক্ষে জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠান। এতে বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে হাইকোর্টে রিটসহ অন্যান্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, নবীনগর উপজেলার নাসিরাবাদ বালুমহাল ইজারা নিয়ে নরসিংদীর রায়পুরার মির্জারচরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। এতে শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় সৃষ্টি হচ্ছে। নদীর তীরবর্তী চরলাপাং, মানিকনগর, সাহেবনগরসহ একাধিক গ্রাম শতাধিক খননযন্ত্রের গর্জনে দিনরাত কাঁপছে। ফসলি জমি, মসজিদ, মাদ্রাসা ও শত শত ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে।
নোটিশে আরো বলা হয়, বালুমহাল ও মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তাই অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, জড়িত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, পুনরাবৃত্তি রোধে নিয়মিত নজরদারি এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিবেশ পুনরুদ্ধার করার দাবি জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘স্বর্ণ প্রাসাদ’ নামে পরিচিত এ বালুমহাল সশস্ত্র প্রহরীদের নিয়ন্ত্রণে, যেখানে কেউ প্রতিবাদ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ফলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে মুখ খুলতে সাহস পায় না। এর ফলে নদীতীর ভাঙন, জলজ জীববৈচিত্র্যের ধ্বংস, প্রাকৃতিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং ভাঙন ও বন্যার ঝুঁকি ভয়াবহ আকারে বাড়ছে।
লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্যারিস্টার সোলায়মান তুষার বলেন, “পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫, বাংলাদেশ পরিবেশ আদালত আইন ২০১০ এবং অন্যান্য প্রযোজ্য আইনের আলোকে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হবে।”
এর আগে, মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে প্রতিদিনের বাংলাদেশেল অনলাইন সংস্করণ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংবাদ প্রচারের পর আজ এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়।