প্রকাশ: শনিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৫, ১:০৮ AM

নোয়াখালীর হাতিয়ায় সুদের টাকা পরিশোধ না করায় এক রিক্সাচালকের বসতঘরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সুদি কারবারী তোফায়েল আহম্মদের বিরুদ্ধে। এতে করে রিক্সাচালক একরাম হোসেন গত আটদিন ধরে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে খোলা বারান্দায় ঝড়বৃষ্টির মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের চরবগুলা গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি প্রকল্পের একটি ঘরে বসবাসকারী একরাম হোসেন কয়েক বছর আগে সুদের টাকায় ঋণ নেন। দীর্ঘদিন টাকা শোধ করতে না পারায় তোফায়েল আহম্মদ সম্প্রতি তার ঘরে তালা দেন। ফলে পরিবারটি বারান্দায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
একরাম জানান, ২০১৫ সালে দুর্ঘটনায় আহত দুজনের চিকিৎসার জন্য তিনি ৬০ হাজার টাকা ধার নেন। এরপর পর্যায়ক্রমে আরও টাকা ধার করতে হয়। ইতোমধ্যে তিনি ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা শোধ করলেও জোরপূর্বক তাকে ৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকার স্ট্যাম্পে টিপসই করানো হয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে রাত কাটাচ্ছি। রান্নাবান্না বন্ধ, পাশের বাড়ি থেকে ধার করা বিছানা-মশারী দিয়ে কোনরকমে দিন পার করছি।”
অভিযোগ অস্বীকার না করে সুদি কারবারী তোফায়েল আহম্মদ বলেন, “সে লাভের টাকায় ঋণ নিয়েছে। টাকা না দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। তাই ঘরে তালা দিয়েছি। টাকা পরিশোধ করলে তালা খুলে দেব।”
এ বিষয়ে চরকিং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাঈম উদ্দিন বলেন, “সুদের পাওনার জন্য কারো বসতঘরে তালা মারা আইনত অপরাধ। আমি চৌকিদার পাঠিয়ে তালা খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ