
সংগৃহীত ছবি
“বেতন পাই সামান্য, তাতেই সংসার চালানো দায়। এখন বাজারে গেলে মনে হয় সব পণ্যের দাম হাতের বাইরে। কোনো কিছুর দাম নিয়ে দরদাম করার সুযোগ নেই, ব্যবসায়ীরা যা বলছে তাই দিয়ে কিনতে হচ্ছে”, আক্ষেপের সুরে এমন কথা বলছিলেন রাজধানীর এক বেসরকারি চাকরিজীবী আল মামুন।
শাক-সবজি, মাছ, মুরগি, ডিম, চাল—প্রায় সব নিত্যপণ্যের দামই এখন ঊর্ধ্বমুখী। ক্রেতাদের অভিযোগ, জুলাই থেকে লাগাতার দাম বাড়তে শুরু করে এবং বর্তমানে তা নাগালের বাইরে চলে গেছে। ফলে বাজারে গিয়ে নিত্যপণ্যের ঝুড়ি ভরার বদলে হাহুতাশ করেই ফিরছেন অনেকেই।
মুরগি ও ডিমের বাজার
গত সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে মুরগির দাম। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৭০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১৬০-১৭০ টাকা। সোনালি মুরগি ৩২০-৩৪০, সাদা কক ৩০০, লাল কক ২৮০-৩০০ এবং দেশি মুরগি ৬০০-৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের দাবি, সরবরাহ কম থাকায় এ পরিস্থিতি।
ডিমের দামেও আগুন লেগেছে। বর্তমানে প্রতি ডজন লাল ডিম ১৫০, সাদা ডিম ১৪০ এবং হাঁসের ডিম ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের দাম
গরু ও খাসির মাংসে তেমন পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০-৮০০, খাসির ১,২০০ এবং ছাগলের মাংস ১,১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজির বাজার
সবজির দামও ক্রেতাদের কাঁদাচ্ছে। গোল বেগুন কেজিপ্রতি ১৬০ টাকা, লম্বা বেগুন ৬০-৮০, টমেটো ১৭০, করলা ৭০, ঢ্যাঁড়স ৬০, কাঁকরোল ৭০-৮০, পটল ৬০-৭০, ধুন্দল ৪০-৫০, কচুর মুখী ৬০, শসা ৫০-৭০ এবং পেঁপে ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বরবটি ৮০-১০০, গাজর ৭০, পেঁয়াজ ৮০, আলু ২০-২৫, ধনেপাতা ৩০০, চিচিঙ্গা ৮০ এবং উচ্ছে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শাকের বাজারেও আগুন। লাউ শাক প্রতি আঁটি ৪০-৫০, পুঁইশাক ৩০-৪০, ডাঁটাশাক ২০-২৫, কলমি শাক ১৫, লাল শাক ২০-৩০ এবং পাটশাক ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চাল-ডাল-আটার দাম
খোলা আটা কেজিপ্রতি ৪৫-৫০, প্যাকেট আটা ৫৫-৬০ টাকা। দেশি মসুর ডাল বেড়ে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, ভারতীয় মসুর ডাল ৯৫-১০৫ টাকা।
চালের বাজার অপরিবর্তিত। মিনিকেট কেজিপ্রতি ৮২-৮৫, নাজিরশাইল ৮৫-৯২ এবং মোটা চাল ৫৬-৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজার
মাছের দামও কমেনি। এক কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২,২০০ টাকায়। ৫০০-৬০০ গ্রাম ইলিশ ১,৬০০, ৭০০-৮০০ গ্রাম ইলিশ ১,৮০০ এবং দেড় কেজির ইলিশ ৩,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া বোয়াল ৭৫০-৯০০, কোরাল ৮৫০, আইড় ৭০০-৮০০, রুই ৩৮০-৪৫০, কাতল ৪৫০, তেলাপিয়া ১৮০-২২০, পাঙাশ ১৮০-২৩০, কৈ ২০০-২২০, পাবদা ও শিং ৪০০-৫০০, চাষের ট্যাংরা ৭৫০-৮০০, কাঁচকি ৬৫০-৭০০ এবং মলা ৫০০-৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) অভিযোগ করেছে, বাজারে অতি মুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট তৈরি করে কৃত্রিম সংকট ঘটাচ্ছে। পর্যাপ্ত আমদানি ও মজুত থাকলেও দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর মনিটরিং নেই। ক্যাবের সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বাজার তদারকিতে ব্যর্থ। ফলে ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে, আর ভোক্তাদের কষ্ট বেড়েই চলছে।”