প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০২৫, ৩:৫৩ পিএম

সংগৃহীত ছবি
হার্নিয়া হলো পেটের দেয়ালের দুর্বল অংশ দিয়ে পেটের ভেতরের অঙ্গ বা চর্বি বেরিয়ে আসার একটি সমস্যা। সাধারণত কুঁচকি, নাভি বা ডায়াফ্রামের অংশে দেখা যায়। আক্রান্ত অংশ ফুলে যায় এবং ব্যথা হতে পারে। হার্নিয়া শিশু থেকে বৃদ্ধদের মধ্যে যে কোনো বয়সে হতে পারে।
হার্নিয়ার কারণ
হার্নিয়া হওয়ার পেছনে মূল কারণ হলো জন্মগত ত্রুটি, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশির দুর্বলতা, অতিরিক্ত ওজন, কোষ্ঠকাঠিন্য, দীর্ঘমেয়াদি কাশি, পেটে আঘাত বা পূর্ববর্তী অস্ত্রোপচার, এবং ভারী ওজন তোলা। পুরুষদের মধ্যে এটি সাধারণত কুঁচকি অঞ্চলে, আর মহিলাদের মধ্যে নাভি অঞ্চলে বেশি দেখা যায়।
অবহেলা করলে হার্নিয়া জটিল রূপ নিতে পারে। ফাঁক থেকে বের হওয়া অঙ্গ বা খাদ্যনালী আটকে গেলে অতি তীব্র ব্যথা, বমি বা প্রাণহানি পর্যন্ত ঘটতে পারে। এটিকে অবস্ট্রাকটিভ বা স্ট্রাঙ্গুলেটেড হার্নিয়া বলা হয়।
চিকিৎসা ও সার্জারি
হার্নিয়ার কোনো ওষুধীয় সমাধান নেই; একমাত্র অপারেশনের মাধ্যমে রোগ নিরাময় সম্ভব। আধুনিক চিকিৎসায় জাল (Mesh) ব্যবহার করে হার্নিয়া রিপেয়ার করা হয়। ল্যাপারোস্কপি বা মিনিমালি ইনভেসিভ সার্জারিতে (MIS) অপারেশন করা হলে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে এবং ব্যথা কম অনুভব করে। আজকাল রোবটিক সার্জারিতেও হার্নিয়ার চিকিৎসা হচ্ছে।
প্রযুক্তি ও শল্যচিকিৎসকের দক্ষতার ওপর নির্ভর করে অপারেশনের সাফল্য। বিভিন্ন অ্যাডভান্স ল্যাপারোস্কপি পদ্ধতি যেমন TAPP, TEP, eTEP, TAR, IPOM-এর মাধ্যমে রোগী দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।