প্রকাশ: বুধবার, ২০ আগস্ট, ২০২৫, ৮:৫৪ AM

বান্দরবানে রুমা উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। তবে এ ঘটনায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা'র অজুহাতে ৫ জন ধর্ষণকারীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই টাকা এখনও দেওয়া হয়নি যা ছিলো স্থানীয়ভাবে
মীমাংসার একটা অংশ মাত্র। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার রুমা উপজেলার পাইন্দু হেডম্যান পাড়ায়।
ধর্ষণকারীরা হলেন- রুমা উপজেলার পাইন্দু হেডম্যান পাড়ার বাসিন্দা ক্যাহ্লা ওয়াইং মারমা, ক্যওয়ং সাই মারমা, চহাই মারমা, উহাই সিং মারমা এবং ক্য সাই ওয়ং মারমা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ৫ জন যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ থাকলেও সামাজিক বিচার বসিয়ে পরিকল্পিত ভাবে ধর্ষণকারীদের ছেড়ে দিয়েছেন পাইন্দু ইউপি'র ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও নিষিদ্ধ ঘোষিত পাইন্দু ইউপি আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গংবাসে মারমা, পাইন্দু মৌজার হেডম্যান মংচউ মার্মা ও পাইন্দু পাড়ার কারবারী (পাড়া প্রধান) থোয়াইসা মারমা। এঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চরম ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর ভাষ্যমতে স্বজনরা জানান, চলতি মাসের প্রথমে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে পাইন্দু হেডম্যান পাড়ার বাসিন্দা রাংমেশে মারমা'র ছেলে শৈহাইনু মার্মা। পরে তাঁর মাধ্যমে অন্য বন্ধুরা বিষয়টি জানতে পারেন। সে অজুহাতে তাঁরা ৫ বন্ধু মিলে ওই ছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পর্যায়ক্রমে একে একে ধর্ষণ করে। পরে ধর্ষিত ছাত্রী কোন উপায় না পেয়ে ধর্ষণের বিষয়টি তাঁর পরিবারকে জানালে এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পরে। পরে পারিবারিক সম্মতিতে পাড়া প্রধান থোয়াইসা মারমা’র বাড়িতে ধর্ষণ সংক্রান্ত সামাজিক বিচার বসে। সে বিচারে ৫ জন ধর্ষণকারীদের প্রতিজন ১০ হাজার করে মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ জরিমানা কয়েকদিনের মধ্যে পরিশোধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্ষণের ব্যাপারে খবর পেয়েছি। বিস্তারিত খোঁজখবর নিচ্ছি এবং আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি বলে জানান তিনি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম