প্রকাশ: বুধবার, ২০ আগস্ট, ২০২৫, ৫:১৭ AM

সংগৃহীত ছবি
এবার রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) আইনে ছাত্রসংসদ সংযুক্ত করার পাশাপাশি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার পর আমরণ অনশন প্রত্যাহার করেছেন শিক্ষার্থীরা।
গতকাল মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের উত্তর গেটে স্থলে আসেন উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলী। এ সময় তিনি ছাত্রসংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য রোডম্যাপ ঘোষণা করেন। তার দেয়া আশ্বাস মেনে নেয়ায় উপাচার্য নিজ হাতে তাদের ডাব খাইয়ে অনশন ভাঙান।
এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলী বলেন, “ছাত্রসংসদ নিয়ে সংবিধি পরীক্ষা ও চূড়ান্তকরণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আগামী বৃহস্পতিবার বৈঠক ডেকেছে ইউজিসি। তারা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নিয়ে কার্যক্রম শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আমরা ছাত্রদের নিয়ে সম্ভাব্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছি। আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে পারব।”
তিনি আরো বলেন, ‘‘যেহেতু এখনো গেজেট ঘোষণা হয়নি, এজন্য সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করতে পারছি না। তবে গেজেট প্রকাশ হওয়ার পর দ্রুত নির্বাচন হবে।’’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সম্ভাব্য লিখিত রোডম্যাপে যা আছে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচনী কার্যক্রম সম্পন্ন হবে, ভোট গ্রহণ ২৬ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে যেকোনো একদিন এবং সরকার কর্তৃক গেজেট প্রকাশ মাত্রই এই রোডম্যাপ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে। সেইসঙ্গে বিস্তারিত তফসিল ঘোষণা করা হবে।
এর আগে টানা তিন দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আমরণ অনশন
পালন করছিলেন শিক্ষার্থীরা। এতে অসুস্থ হয়ে পড়েন অন্তত আট শিক্ষার্থী,
যাদের মধ্যে চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
অনশনকারীদের পক্ষ থেকে ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, “ইউজিসির পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তারা বৃহস্পতিবার বৈঠক করবে বলে জানিয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচনের একটি সম্ভাব্য রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। এজন্য অনশন প্রত্যাহার করছি। আমরা আশা করি উল্লিখিত সময়ের মধ্যে শহীদ আবু সাঈদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ প্রতিষ্ঠিত হবে।”
পরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য ড. তানজিম উদ্দিন খান মোবাইল ফোনে অনশনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, “ছাত্র সংসদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে যেহেতু নেই সেটি সংযুক্ত করতে বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। যাতে অন্য কেউ অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করতে না পারে। এজন্য শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরতে হবে। দ্রুত প্রক্রিয়াটি শেষ করা হবে।”