প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৫, ৯:৩৩ AM

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ঢাকায় জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু হতে যাচ্ছে।
আগামী শনিবার (১৬ আগস্ট) পতেঙ্গার ডেসপাস টার্মিনাল থেকে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো পর্যন্ত তেল পরিবহন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান।
২০১৮ সালে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী পাইপলাইনে জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রকল্প হাতে নেয় তৎকালীন সরকার। ইতোমধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং পরীক্ষামূলক অপারেশনও সফলভাবে শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে প্রায় ২৩৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে, পরিবহন ব্যয় ও অপচয় কমবে এবং তেল সরবরাহের সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
উদ্বোধনের পর নদীপথের অয়েল ট্যাংকারের পরিবর্তে পাইপলাইনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা ডিপোতে তেল সরবরাহ করা হবে। আগে শতাধিক কোস্টাল ট্যাংকারে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগলেও এখন মাত্র ১২ ঘণ্টায় তেল পৌঁছাবে। খারাপ আবহাওয়ায় নৌপথের ঝুঁকিও এভাবে এড়ানো যাবে।
২৪২ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১৬ ইঞ্চি ব্যাসের এই পাইপলাইনে চট্টগ্রাম থেকে প্রতি ঘণ্টায় ২৬০–২৮০ টন ডিজেল নারায়ণগঞ্জের গোদনাইলে পাঠানো যাবে। গত ২২ জুন পতেঙ্গা গুপ্তখাল থেকে পদ্মা অয়েল কোম্পানির দুটি ট্যাংকের ১৮–২০ হাজার টন ডিজেল এবং পরে মেঘনা অয়েল কোম্পানির দুটি ট্যাংকের ১৬–১৮ হাজার টন ডিজেল সফলভাবে সরবরাহ করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘণ্টায় ২৬০–২৮০ টন সরবরাহ করা হলেও সক্ষমতা রয়েছে ঘণ্টায় ৩২০ টন পর্যন্ত।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে পেট্রোলিয়াম ট্রান্সমিশন কোম্পানি পিএলসি (পিটিসিপিএলসি)। এর আওতায় পতেঙ্গা থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত ২৪১.২৮ কিলোমিটার ১৬ ইঞ্চি ব্যাসের ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন এবং গোদনাইল থেকে ফতুল্লা পর্যন্ত ৮.২৯ কিলোমিটার ১০ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। পাইপলাইনের সঙ্গে স্ক্যাডা, টেলিকমিউনিকেশন ও লিক ডিটেকশন সিস্টেমে অপটিক্যাল ফাইবার কেবল যুক্ত রয়েছে। পতেঙ্গা থেকে ফতুল্লা পর্যন্ত লাইনটি ২২টি নদীর তলদেশ অতিক্রম করেছে এবং এতে রয়েছে ৯টি স্টেশন। কুমিল্লার বরুড়ায় ২১ হাজার টন ধারণক্ষমতার একটি নতুন ডিপোও নির্মিত হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক ও পিটিসিপিএলসির প্রকৌশলী মো. আমিনুল হক জানান, ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় পাঁচ কোটি লিটার ডিজেল পরিবহন করা হয় এবং কোনো সিস্টেম লস ছাড়াই সরবরাহ সম্পন্ন হয়। কিছু কারিগরি ত্রুটি থাকলেও সেগুলো সমাধান করা হয়েছে। প্রায় ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প বছরে ৫০ লাখ টন তেল সরবরাহ করতে সক্ষম হবে, যা থেকে ৩২৬ কোটি টাকা আয় এবং প্রায় ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ