প্রকাশ: বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫, ৫:৩৯ পিএম

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ৭নং উরফি ইউনিয়নের মানিকহার বাজার থেকে মধুপুর পর্যন্ত মধুমতি নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গন কয়েক বছর ধরে গ্রামবাসীর জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে এ বছরের বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি ও প্রবাহের তীব্রতায় ভাঙ্গনের গতি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। প্রতিদিনই বসতবাড়ি, ফসলি জমি, মসজিদ-মাদ্রাসা ও গ্রামীণ সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাসে অন্তত ১০০টির বেশি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। অনেকেই আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন, আবার কেউ কেউ উন্মুক্ত মাঠে অস্থায়ী ঘর তুলে বসবাস করছেন। মানিকহারের পার্থ দাস বলেন, “গত বছরও কিছু জমি নদীতে গেছে, কিন্তু এ বছর ভাঙ্গন যেন থামছেই না। আমার কৃষি জমি ও বসতভিটা সব নদীতে বিলীন হয়েছে।” মধুপুর গ্রামের গ্রাম পুলিশ মাজেদ সরদার বলেন, “প্রতিদিনই মনে হয় আজই হয়তো নদী আমাদের ঘর টেনে নেবে। বউ-বাচ্চাদের নিয়ে ভীষণ ভয়ে থাকি।”
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একাধিকবার ভাঙ্গন পরিদর্শন করলেও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ৭নং উরফি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির গাজী বলেন, “পরিস্থিতি মারাত্মক। আমরা জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রিফাত জামিল জানান, “মানিকহার বাজার থেকে মধুমতি নদীর ভাঙ্গন দীর্ঘদিনের সমস্যা। স্থায়ী সমাধানের জন্য ডিপিপি প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। গত অর্থবছরে অনুমোদন হয়নি। এবছর পুনরায় পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ পেলে স্থায়ীভাবে কাজ করা সম্ভব হবে। যদিও প্রতিবছর আমরা বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করি। এবার ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়েছে, ইতিমধ্যেই কিছু ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। খবর পেয়ে আমাদের একটি টিম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে, এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। অনুমোদন পেলেই জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ