প্রকাশ: বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫, ১১:১৫ AM

সংগৃহীত ছবি
কলকাতার প্রখ্যাত বর্ষীয়ান অভিনেত্রী বাসন্তী চ্যাটার্জি মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি; পেটের ক্যানসার এবং একটি কিডনি অচল থাকার খবর জানা গেছে।
গত ছয় মাস ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন এই অভিনেত্রী, যিনি প্রায় ৭০ বছর ধরে অভিনয় জীবনে সক্রিয় ছিলেন। উত্তমকুমার, ছবি বিশ্বাস, সুচিত্রা সেনসহ বহু কিংবদন্তি শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি।
বাসন্তী চ্যাটার্জির অভিনয় জীবন শুরু হয়েছিল মূলত থিয়েটার থেকে। পরবর্তীতে সিনেমা ও ধারাবাহিকে কাজ করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। শেষ সময়ে তিনি ‘গীতা এলএলবি’ ধারাবাহিকে অভিনয় করছিলেন।
এই ধারাবাহিকের সহ-অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় ‘এই সময় অনলাইন’-কে জানান, “তিনি শেষ সময় খুব কষ্টে ছিলেন। তার প্রয়াণে আমরা সবাই মনে করি তিনি মুক্তি পেয়েছেন।”
২০২৫ সালের শুরুতেই ‘গীতা এলএলবি’ ধারাবাহিকের সেটে ফিরেছিলেন বাসন্তী, কিন্তু পাঁজরের ভাঙনের কারণে শারীরিক অবস্থা খারাপ হয় এবং তারপর থেকে তিনি অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন।
এপ্রিল মাসে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ইন্ডাস্ট্রিতে যখন পা রাখি তখন আমার বয়স প্রায় ১৫ বছর ছিল। এখন প্রায় ৭০ বছর হয়ে গেল, কত স্মৃতি।”
অভিনেত্রীর প্রয়াণের খবর প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গে টেলিপাড়ায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় বারবার অভিনেত্রীর অসুস্থতার কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরেছিলেন এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদনও করেছিলেন। এছাড়া স্নেহাশিস চক্রবর্তীর সাহায্যও পেয়েছিলেন তিনি। ‘ঠগিনী’, ‘আমি সে ও সখা’ ছবিগুলোতে তার অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়।
বাসন্তী দেবীর দীর্ঘ দিনের গৃহকর্মী কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “নতুন কোনো সমস্যা হয়েছিল না, হঠাৎই চলে গেলেন। তবে গত ছয় মাস তিনি খুব কষ্টে ছিলেন। প্রার্থনা করি, তিনি শান্তিতে বিশ্রাম লাভ করুন।”