
রাত ১০ দিকে তালতলী থানা থেকে দুই কিলোমিটার দূরে গোপনে এই ভ্যান গাড়িগুলো বিতরণ করা হয়।
বরগুনার তালতলী উপজেলার কৃষি অফিসের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমাম হোসেন বিরুদ্ধে রাতের আঁধারে কৃষি পণ্য পরিবহনের জন্য ভ্যান গাড়ি বিতরণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গতকাল সোমবার (১১ আগস্ট) রাত ১০ দিকে তালতলী থানা থেকে দুই কিলোমিটার দূরে গোপনে এই ভ্যান গাড়িগুলো বিতরণ করা হয়।এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নানা প্রশ্নে জন্ম দিয়েছেন।
অভিযোগ
রয়েছে, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মো. ইলিয়াসের যোগসাজশে অর্থের
বিনিময়ে সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমাম হোসেন রাতের আঁধারে বিতরণ করেছেন।
জানা যায়, এসএসসিপি কস্ট শেয়ারিং প্রকল্পের আওতায় উপজেলায় পাঁচটি সিএফসি কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। প্রত্যেক কেন্দ্রে সরকারিভাবে এক লাখ ৮৫ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়। ওই বরাদ্দের সাথে কৃষকরা তাদের অর্থ সংযোজন করে কেন্দ্র নির্মাণ করবেন এমন শর্ত জুড়ে দেয়া আছে প্রকল্পের নীতিমালায়। কৃষকরা তাদের কৃষি পণ্য বিক্রির জন্য কেন্দ্রে মজুদ রাখবেন। ওই স্থান থেকে তারা বিক্রেতার কাছে সরবরাহ করবেন। এ কাজে সহায়তার জন্য সরকার কৃষি উপকরণ টিলার মেশিন, ওয়েট মেশিন, ক্যারোট ও পরিবহণ ভ্যান বরাদ্দ দিয়েছেন।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আবু জাফর ইলিয়াস অর্থের বিনিময়ে ওই সিএফসি কেন্দ্র কৃষকদের মাঝে বরাদ্দ দিয়েছেন। ওই পাঁচটি সিএফসি কেন্দ্রের জন্য পটুয়াখালীতে পাঁচটি পণ্য পরিবহণ ভ্যান গাড়ি নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে তিনটি ভ্যান গাড়ি সোমবার পটুয়াখালী থেকে আনা হয়। ওই ভ্যানগুলো সোমবার রাত দশটার দিকে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের ভিতরে বিতরণ না করে দুই কিলোমিটার দূরে তালতলী থানা থেকে ১০০ ফুট দূরত্বে গিয়ে ইব্রহিম, রাখাইন জোলেন ও আল আমিন নামের তিনজনের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এতে জনমনে নানা প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতনমহল।
প্রত্যক্ষদর্শী বেল্লাল হোসেন ও অপু মিয়া বলেন, “এতে কোথাও ঘাবলা আছে। নইলে এতো রাতে কেন কৃষি অফিসের লোকজন তাদের অফিস ছেড়ে কেন লোকালয়ে এসে ভ্যান গাড়ি বিতরণ করবেন। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখলে আসল রহস্য বেড়িয়ে আসবে।”
কবিরাজপাড়া সিএফসির পরিচালক রাখাইন জোলেন বলেন, “উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইমাম হোসেন ভ্যাগ গাড়ি নিতে আমাকে রাত দশটায় এখানে উপস্থিত থাকতে বলেছেন। তাই রাতে গাড়ি নিচ্ছি। তবে কেন তারা এতো রাতে ভ্যান গাড়ি দিয়েছেন তা আমি জানি না।”
তালতলী উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমাম হোসেন বলেন, “উপজেলা কৃষি অফিসার রাতে ভ্যান গাড়ি কৃষকদের দিতে বলেছেন তাই দিয়েছি।” উপজেলা কমপ্লেক্স ছেড়ে এতো দুরে কোন এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেনি তিনি।
তালতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু জাফর ইলিয়াস অর্থের বিনিময়ে কৃষকদের ভ্যান গাড়ি বিতরণের কথা অস্বীকার করে বলেন, “এ ভ্যানগুলো পটুয়াখালী থেকে আসতে রাত হয়েছে, তাই রাতে বিতরণ করেছি।” তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে না জানিয়ে কেন ভ্যান গাড়ি বিতরণ করেছেন এমন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে সালমা বলেন, “ভ্যান গাড়ি বিতরণের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে রাতে কেন ভ্যান গাড়ি বিতরণ করেছেন তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/আইএমএস