
সংগৃহীত ছবি
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে জাতীয় নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীমের সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
এখানে অপার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টা মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে আসিয়ানের সহায়তা কামনা করেন।
এদিকে, কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উভয় দেশের মধ্যে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়। প্রধান উপদেষ্টাকে গার্ড অফ অনার দেয়া হয় এবং আনোয়ার ইব্রাহীম তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
প্রসঙ্গত, প্রধান উপদেষ্টা তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় রয়েছেন। সোমবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি কুয়ালালামপুরে পৌঁছান।
এর আগে, সফরের প্রস্তুতিমূলক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, সফরের মূল ফোকাস হবে অভিবাসন এবং বিনিয়োগ। মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জনশক্তির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য, তাই এই খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। মালয়েশিয়ার বড় কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকও হবে। ১২ আগস্ট একটি বিজনেস কনফারেন্সে প্রধান উপদেষ্টা অংশগ্রহণ করবেন এবং ১৩ আগস্ট মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি কেবাংসান (ইউকেএম) তাকে সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদান করবে, যেখানে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকার আশা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক শাহ আসিফ রহমান জানান, এই সফরে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল মালয়েশিয়ায় যাচ্ছে। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও বিশেষ দূতরা। দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে, যেগুলোতে রয়েছে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, শিক্ষা, ব্যবসায়িক সহযোগিতা ইত্যাদি বিষয়। এছাড়া হালাল ইকোসিস্টেম, ফরেন সার্ভিস একাডেমি এবং উচ্চ শিক্ষা খাতে সহযোগিতার জন্য এক্সচেঞ্জ নোট স্বাক্ষর করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে মালয়েশিয়া সফর করেন। গত অক্টোবরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেন, যা প্রায় এক দশক পর প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বাংলাদেশ সফর ছিল।