
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধে প্রশাসনের একাধিক সতর্কবার্তা, উচ্ছেদ চিঠি ও যৌথ বাহিনীর অভিযান উপেক্ষা করে এখনো বীরদর্পে চলছে একটি অবৈধ রেস্টুরেন্টের ব্যবসা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহল ও প্রশাসনের নির্লিপ্ততার সুযোগে রেস্টুরেন্ট মালিক শুধু কার্যক্রম চালিয়েই যাচ্ছেন না, বরং নতুন করে টয়লেট নির্মাণসহ স্থায়ী স্থাপনা তৈরির কাজও শুরু করেছেন।
সূত্র জানায়, অবৈধভাবে স্থাপিত এই রেস্টুরেন্ট অপসারণে পানি উন্নয়ন বোর্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), মতলব উত্তর থানার ওসি, ফরাজীকান্দি ইউপি চেয়ারম্যানসহ কয়েকটি দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছিল।
ইউএনও’র দাবি, ‘আমরা অপসারণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অনুরোধ করেছি। উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার এখতিয়ার তাদের।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম সাহেদ বলেন, ‘চিঠি আমরা প্রেরণ করেছি। তবে অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করব।’
তবে ততদিনে অবৈধ ব্যবসা অব্যাহত থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
গত শুক্রবার সকালে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযান রেস্টুরেন্ট এলাকায় গিয়ে কর্তৃপক্ষকে প্রাথমিকভাবে সরিয়ে নেওয়ার জন্য সতর্ক করে। কিন্তু সেই নির্দেশনাও উপেক্ষা করে, মালিক পক্ষ আরও সাহসী হয়ে উঠেছে। অভিযানের কয়েক দিনের মধ্যেই বেড়িবাঁধ দখল করে টয়লেট নির্মাণ শুরু হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এলাকার একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই অবৈধ রেস্টুরেন্ট প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলছে। নইলে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বারবার সতর্কবার্তা অমান্য করার সাহস আসে কোথা থেকে?’
স্থানীয় পরিবেশবাদীরা সতর্ক করে বলেছেন, নদী তীরবর্তী বেড়িবাঁধ দখল করে ব্যবসা ও স্থাপনা নির্মাণ শুধু আইনবিরোধী নয়, বরং বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত এই অবৈধ রেস্টুরেন্ট উচ্ছেদ করে বেড়িবাঁধের জমি দখলমুক্ত করতে হবে। অন্যথায় তারা কঠোর আন্দোলনে নামবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম