প্রকাশ: শুক্রবার, ৮ আগস্ট, ২০২৫, ৩:০৪ পিএম আপডেট: ০৮.০৮.২০২৫ ৪:৩৫ PM

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এসডি খান সড়ক এখন গর্ত ও খানাখন্দে ভরপুর হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সড়কের জামালদী বাসস্ট্যান্ড থেকে হোসেন্দী বাজার পর্যন্ত অংশে বড় বড় গর্তের কারণে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এতে সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
বিশেষ করে বর্ষাকালে সড়কে জমে থাকা পানিতে গর্ত ঢেকে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে কয়েকগুণ। গত দুইদিনে ঘটেছে একাধিক দুর্ঘটনা।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জামালদী এলাকায় প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় ট্রেইলার চাপায় মারা যায় ৫ বছর বয়সী শিশু সারাফাত। আহত হয় জামিয়া আক্তার নামের আরেক শিক্ষার্থী।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বৃহস্পতিবার সড়ক অবরোধ করেন। তাদের দাবী, দিনের বেলায় স্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভারী যান চলাচল বন্ধ রাখতে হবে। পরে স্থানীয় প্রশাসনের আশ্বাসে ঘন্টাখানেক পর অবরোধ তুলে নেন তারা।
আজ শুক্রবার (৮ আগস্ট) সকালেও ঘটে আরেকটি দুর্ঘটনা। বৃষ্টির পানিতে ডুবে থাকা গর্তে পড়ে ব্যাটারিচালিত একটি অটো উল্টে যায়। এতে মহিলা ও শিশুসহ কয়েকজন যাত্রী আহত হন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসডি খান সড়কের পাশেই গড়ে ওঠা একাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভারী যানবাহন প্রতিনিয়ত চলাচল করায় রাস্তার অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া জামালদী ও লস্করদী এলাকায় দুটি সেতু নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে আরও।
বিশেষ করে লস্করদী এলাকায় তৈয়ব শাহর বাড়ির পাশের খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুটি তিন বছরেও শেষ হয়নি। এই প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সানটেক্স কনস্ট্রাকশন-এর কোনো প্রতিনিধিকে গতকাল সাইটে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সামিউল আরেফিন জানান, লস্করদী এলাকায় সেতু নির্মাণে ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। তবে সড়কটির কিছু অংশ ইতোমধ্যে সিসি ঢালাই করা হয়েছে। বাজেট পাওয়া সাপেক্ষে বাকি অংশগুলো পর্যায়ক্রমে সংস্কার করা হবে। চলাচলের ঝুঁকি কমাতে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো আপাতত মেরামতের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সড়ক সংস্কার ও সেতু নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে জনদুর্ভোগ লাঘব করা হোক।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম