বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
কারাগারে যাদের ডেকেও পাইনি, তারাই পরে স্যার বলে ডেকেছে: নূর
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০২৫, ২:৩৬ পিএম আপডেট: ০৭.০৮.২০২৫ ২:৫৪ PM

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর বলেছেন, জেলখানায় হঠাৎ কারারক্ষীরা এসে আমাকে স্যার বলে ডাকছে। এক কারারক্ষী দৌড়ে এসে বলছে স্যার প্যান্ট পড়ে নেন। রিজভী ভাই সহ সিনিয়র লিডাররা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। এতোক্ষণ কাউকে ডেকেও পাইনি তারাই স্যার বলে ডাকছে।

বুধবার (০৬ আগস্ট) বিকাল ৪টায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের কারাবন্দীদের নিয়ে স্মৃতিচারণামূলক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

কারাগারে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নুরুল হক নূর বলেন, ‘যেদিন শেখ হাসিনা পালিয়ে যায় সেদিন  পৌঁনে ৩টার দিকে মুহিবউদ্দিন নামে এক কারারক্ষী এসে বললেন, ভাই গেছে। তখন বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। এরপর কিছুক্ষণের মধ্যে জেলখানায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়ে গেল। পরে কারারক্ষীরা এসে স্যার বলতেছে। এটাই বাংলাদেশের বাস্তবতা। সরকার পতনের ১ ঘন্টা আগেও সুখ দুঃখের গল্প করার জন্য যদি কাউকে সামনে ডাকতাম, কেউ কাছে আসত না। অথচ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার কয়েক মিনিট পরেই স্যার ডাকতে শুরু করেছে। জেলার অনেকগুলো টেলিফোন এনে আমাদেরকে দিয়ে বলেন ভাই কথা বলেন।’

জুলাই আন্দোলনের সময়ে কিছু ভয়াবহ দৃশ্য নিয়ে নুরুল হক বলেন, ‘১৯ একটি গণমিছিলের কর্মসূচি দেওয়া হয়। সেই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য বাসা থেকে বের হওয়ার পথেই দেখি ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। বিল্ডিংয়ের উপর থেকে বিচ্ছিন্নভাবে গুলি এসে পড়তেছে। তখন দশম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে নিয়ে সাথে থাকা লোকজন সবাই অস্থির হয়ে পড়ে। মালিবাগ হয়ে অফিসের দিকে আসার সময় এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়েছিল, সামনে এগোনো যাচ্ছিলোনা। কিছু বুঝে উঠার আগেই দেখি একজন পড়ে গেছে। মাথায় থেকে সাদা মগজের মত কি যেন বের হল। এর কিছুক্ষণ পরেই দেখি আরেকজন মহিলাকে নিয়ে আসল ইসলামিক ব্যাংক হসপিটালে। এরপর শুনলাম উনি সেগুনবাগিচা তার বাসায় গুলিবিদ্ধ হয়েছে।’

জুলাই আন্দোলনে আটক ও কারাবন্দী সময়ে নির্যাতন প্রসঙ্গে নুরুল বলেন, ‘১৯ জুলাই দেশের ভয়াবহ অবস্থা দেখে রাতে বাসায় ফিরে নাহিদ ও সার্জিস সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের কল দেই। আমি তাদেরকে বলেছিলাম এই পরিস্থিতিতে তোমাদের জাতির নেতৃত্ব দেওয়া উচিত। পিছু হটলে তোমাদের ও আমাদের কারও রেহাই নেই। এই কথা বলার পরে ধরেই নিয়েছিলাম আমি অ্যারেস্ট হতে পারি। কথা শেষ করে ঘুমাতে যাচ্ছিলাম তখন দরজা ভেঙে র‍্যাব, ডিবি ও পুলিশ ভিতরে ঢুকে গেল। শিকারী যেভাবে শিকার ধরে সেভাবে আমাকে ধরে চোখ বেঁধে নিয়ে গেল। কোথায় নিয়ে যাচ্ছে কিছু বুঝে উঠতে পারছি না। হ্যান্ডকাফ পড়া ও চোখ বাঁধা অবস্থায় আমাকে কোথাও রাখা হয়। কখন যে দিন হয়েছে, কখন যে রাত হয়েছে সেটা কিছুই জানি না।’

নির্যাতন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে হাত পাঁ বেঁধে ঝুলিয়ে পিটানো হয়। তাদের নির্যাতনের চিহ্ন এখনও আছে আমার শরীরে। তখন আমি তাদের বললাম আপনাদের এখানে কতদিন থাকতে হবে সেটা আমি জানি না। শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ার কারণে আমি তাদের ডাক্তার দেখানোর জন্য অনুরোধ করলাম। কিন্তু তারা আমাকে কোন চিকিৎসা নিতে দেয়নি।

কারাগারের বিষয়ে নুরুল হক বলেন, ‘আমি যে কারাগারে ছিলাম সেই কারাগারের জেল সুপার ছিলেন ঢাকা ইউনিভার্সিটির ছাত্র। তাই আমি একটু সিম্প্যাথি পাব এরকম আশা করেছিলাম যেহেতু আমি ডাকসু ভিপি ছিলাম। একটা রুমে থাকতে দেবে এরকমটা আশা করেছিলাম। অথচ যেখানে ফাঁসির আসামিদের রাখা হয় সেরকম জায়গায় আমাদেরকে রাখা হয়েছিল এবং রুমগুলোতে এত দুর্গন্ধ ছিলো যে সেখানে অবস্থান করা অসম্ভব।

পরিশেষে নূর বলেন, ‘জেলখানার টর্চার রুমে নির্যাতন করে আমাকে বলতে বলা হয়েছিল এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে জামায়াত-বিএনপি। তারেক রহমানের নির্দেশে এগুলো হয়েছে- এমনটি আমাকে বলতে বলা হয়েছিল। তারা আমাকে বলে আপনি এমনটি বললে আপনাকে মুক্তি দেওয়া হবে। আর যদি আমি তাদের কথা না শুনি তাহলে আমার নামে অসংখ্য মামলা দেওয়া হবে যেন জীবলেও জেল থেকে বের হতে না পারি।

তার ভাষ্যে, আমরা এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিকট প্রত্যাশা থাকবে যতটা সম্ভব নিরাপদ রাষ্ট্র এবং সমাজ ব্যবস্থা চাই। যেখানে প্রত্যেক নাগরিক সম্মান এবং মর্যাদা নিয়ে বাস করবে এই সময়ের মধ্যে এইটুকু আপনারা অন্তত নিশ্চিত করবেন এটাই আমার প্রত্যাশা।’

স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম

আরও সংবাদ   বিষয়:  করাগার   নুরুল হক   জুলাই     






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close