প্রকাশ: বুধবার, ৬ আগস্ট, ২০২৫, ১০:৫০ পিএম

আজ থেকে ঠিক ৮০ বছর আগে, ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ও বিভীষিকাময় অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল। জাপানের হিরোশিমা শহরে মার্কিন যুদ্ধবিমান বি-২৯ থেকে ফেলা হয়েছিল পারমাণবিক বোমা “লিটল বয়”। মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে যায় শহরটির বড় অংশ, প্রাণ হারান প্রায় দেড় লাখ মানুষ। পরে তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে আরও প্রায় ৬০ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে।
এই হৃদয়বিদারক দিনের স্মরণে আজ বুধবার (৬ আগস্ট), হিরোশিমার পিস মেমোরিয়াল পার্কে আয়োজিত হয় ৮০তম বার্ষিক শ্রদ্ধানুষ্ঠান। ভোর থেকেই সেখানে জড়ো হন কয়েক হাজার মানুষ। ধূপ জ্বালিয়ে, ফুল দিয়ে, হাত জোড় করে শ্রদ্ধা জানান ‘হিবাকুশা’রা—যারা সেই দিনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া হিবাকুশা, যাদের অধিকাংশের বয়স ৯০ ছুঁইছুঁই, বলছেন—এটাই হয়তো তাদের শেষ স্মরণানুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া। একজন বললেন, “আর ১০ কিংবা ২০ বছর পর এই দুঃসহ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করার মতো কেউ হয়তো বেঁচে থাকবেন না। তাই যতটা পারি, আমি আমার গল্প বলে যেতে চাই।”
সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে—যে সময় বোমা ফেলা হয়েছিল, সেই মুহূর্তে এক মিনিটের নিরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় স্মরণানুষ্ঠান। উপস্থিত ছিলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা। তিনি বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। এ কারণে পারমাণবিক অস্ত্র নির্মূলের লক্ষ্যে আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। যুদ্ধবিহীন, শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তুলতে হবে।”
পিস পার্কের পাশেই স্থানীয় শান্তি কর্মীরা গান গেয়ে, গোলাপের পাঁপড়ি নদীতে ভাসিয়ে এবং ছবি এঁকে ছড়িয়ে দিয়েছেন শান্তির বার্তা। কেউ কেউ তাদের অনুভবের কথা ফুটিয়ে তুলেছেন চিত্রকলায়। এক শিশুকে দেখা গেছে বাবার হাত ধরে প্রথমবারের মতো পিস পার্কে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছে। যেন নতুন প্রজন্মও এই ভয়াবহতা কখনও ভুলে না যায়, সেই চেতনা নিয়ে দাঁড়িয়েছে তারা।
৮০ বছর পেরিয়ে গেলেও পারমাণবিক অস্ত্র আজও বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। রাশিয়া ও চীনের মতো শক্তিধর দেশগুলোর পারমাণবিক আধিপত্যের প্রতিযোগিতা চলছেই। এ অবস্থায়, হিরোশিমার বিভীষিকা যেন আর কখনও পৃথিবীর মাটিতে না নামে—সেই অঙ্গীকারেই আজ আবার মাথা নত করল জাপান।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ