
সংগৃহীত ছবি
রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর আরও শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই হুমকিকে ‘অন্যায্য’ ও ‘অযৌক্তিক’ বলে আখ্যা দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে রাশিয়া থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখার ইঙ্গিতও দিয়েছে তারা।
ভারতের বিবৃতিতে বলা হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং যুক্তরাষ্ট্র নিজেরাও নিষেধাজ্ঞার পরও রাশিয়ার সঙ্গে ব্যাপক বাণিজ্য করছে। ইউরোপ ২০২৪ সালে রাশিয়ার সঙ্গে ৬ হাজার ৭৫০ কোটি ইউরোর বাণিজ্য করেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানির উপকরণ ও রাসায়নিক দ্রব্য আমদানি করেছে।
ইউরোপ জ্বালানির পাশাপাশি সার, খনির যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক দ্রব্য, লোহা, ইস্পাত, মেশিনারি এবং পরিবহন সংক্রান্ত পণ্যের জন্য রাশিয়ার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। নিষেধাজ্ঞার পরও এই নির্ভরশীলতা আছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধজ্ঞা জারির পরও যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়র কাছ থেকে তার পরমাণু শিল্পের জন্য হেক্সাফ্লোরাইড, বৈদ্যুতিক যানবাহনে ব্যবহারের জন্য পাল্লাডিয়াম, সার ও রাসায়নিক পণ্য আমদানি করছে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যে লিপ্ত, সেখানে ভারতের ওপর এ হেন আক্রমণ অন্যায্য, অযৌক্তিক। তাছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যখন শুরু হয়েছিল, সে সময় জ্বালানির বাজার স্থিতিশীল রাখতে ভারতকে রাশিয়াার কাছ থেকে তেল কিনতে উৎসাহ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।”
অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং জনগণকে ন্যায্য মূল্যে তেল সরবরাহ করাকে ভারত তার জাতীয় স্বার্থ হিসেবে বিবেচনা করে এবং এই স্বার্থ রক্ষায় যাবতীয় পদক্ষেপ ভারত গ্রহণ করবে।
ভারতের ওপর ইতোমধ্যেই ২৫ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। ৭ আগস্ট থেকে তা কার্যকর হওয়ার কথা আছে।
গত কাল সোমবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য ভারতকে দায়ী করে দেশটির ওপর আরও বেশি শুল্ক আরোপের হুমকি দেন তিনি।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, রাশিয়ার চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে ইউক্রেনে কত মানুষ নিহত হচ্ছেন, সে বিষয়টি আমলে না নিয়ে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনেই যাচ্ছে ভারত। এ কারণে তিনি ভারতের পণ্যের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে শুল্কের পরিমাণ আরও বাড়াবেন।
ট্রাম্পের এই পোস্ট দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এ ইস্যুতে বিবৃতি দেয় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।