
যশোর শহরের রাস্তাগুলোতে রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইকের নিয়ন্ত্রণহীন চলাচলে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শহরের সড়কের প্রশস্ততার তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় নাগরিকদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শুরু ও ছুটির সময় যানজট তীব্র আকার ধারণ করে।
সরেজমিনে তিনদিন শহরের প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে ঘুরে দেখা গেছে, সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বকুলতলা থেকে হাসপাতাল মোড়, নিকুঞ্জ মোড়, জেল রোড, আরএন রোড ও চৌরাস্তা এলাকাজুড়ে ভয়াবহ যানজট লেগে থাকে। এতে করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ সাধারণ মানুষকে পড়তে হচ্ছে দুর্ভোগে।
শুধু প্রধান সড়কেই নয়, ট্রাফিক পুলিশের নিয়ন্ত্রণমূলক উদ্যোগের অভাবে ইজিবাইক ও রিকশাচালকেরা এখন অলিগলি ও সংযোগ সড়কগুলোতেও যত্রতত্র চলাচল করছেন। ফলে এসব ছোট সড়কেও চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।
সোমবার সকাল থেকেই শহরের জেল রোড, মুজিব সড়ক, গাড়িখানা রোড, মণিহার মোড় ও দড়াটানা মোড়ে দেখা গেছে থেমে থেমে দীর্ঘ যানজট। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। এমনকি ছুটির দিন শনিবার ও রবিবারও একই চিত্র দেখা গেছে।
এ বিষয়ে কথা হলে কয়েকজন ইজিবাইক ও রিকশাচালক জানান, তাঁদের অনেকেরই লাইসেন্স নেই, তবুও তাঁরা প্রতিদিন রাস্তায় নামেন জীবিকার তাগিদে। কেউ তাঁদের বাধা দিচ্ছে না, ফলে যাত্রীও পাচ্ছেন বেশি, উপার্জনও হচ্ছে ভালো।
অন্যদিকে পথচারীরা জানান, রাস্তায় এখন কারো কোনো নিয়ম মানার বালাই নেই। যত্রতত্র চলাচল করছে যানবাহন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শহরে এখন ঠিকমতো হাঁটাও যায় না। ট্রাফিক পুলিশও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।” তাঁদের মতে, আগে যানজট থাকলেও এখনকার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি ছিল না। গত কয়েক সপ্তাহে তা ক্রমেই বেড়ে চলেছে।
যশোর ট্রাফিক বিভাগের ইনস্পেক্টর মাহফুজুর রহমান বলেন, “উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা না থাকায় এখনও কোনো অভিযান চালানো হয়নি। ফলে কোনো মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাচ্ছে না।”
তিনি আরও জানান, পৌর প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বৈধ যানবাহনের পরিসংখ্যান চাওয়া হয়েছে। দ্রুতই অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান জানান, শহরের যানজট নিরসনে ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। বৈধ ও অবৈধ যানবাহনের তালিকা তৈরি হচ্ছে। শিগগিরই অবৈধ যানবাহন অপসারণে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ