
শিশুর সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের গুরুত্ব অনেক। এই অসম্পৃক্ত চর্বি (Unsaturated Fat) শরীরের বিপাকক্রিয়া ও মস্তিষ্কের সঠিক কার্যকারিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ওমেগা-৩ এর প্রধান তিনটি উপাদান হলো ইপিএ (EPA), ডিএইচএ (DHA) এবং এএলএ (ALA)। ইপিএ ও ডিএইচএ সাধারণত চর্বিযুক্ত মাছসহ প্রাণিজ উৎস থেকে পাওয়া যায়, আর এএলএ পাওয়া যায় উদ্ভিদজাত খাবার থেকে।
কেন শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
গবেষণা বলছে, ওমেগা-৩-এর ঘাটতি শিশুর বুদ্ধিমত্তা, মনোযোগ, শেখার দক্ষতা ও স্মৃতিশক্তি হ্রাস করতে পারে। ADHD বা অতিসক্রিয়তা ও মনোযোগ ঘাটতির মতো সমস্যাও এই ফ্যাটি অ্যাসিডের অভাবে বাড়তে পারে। তাই শিশুর বয়স কম থাকতেই খাবারে ওমেগা-৩ নিশ্চিত করা জরুরি।
ওমেগা-৩ হাঁপানি রোগে উপকারী ভূমিকা রাখতে পারে, কারণ এটি শ্বাসনালীর প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। একইসঙ্গে ঘুমের সমস্যায়ও এটি সহায়ক। ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের একটি বড় অংশ ঘুমজনিত সমস্যায় ভোগে, আর ওমেগা-৩ এর পর্যাপ্ত গ্রহণে ঘুমের মান উন্নত হয়। এ ছাড়া এটি শিশুদের মেজাজ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, বিষণ্নতা রোধে ভূমিকা রাখে এবং চোখের স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
কোন খাবারে ওমেগা-৩ বেশি?
ওমেগা-৩-এর ভালো উৎস হলো সামুদ্রিক মাছ ও খাবার। যেমন:
• স্যামন, সার্ডিন, ইলিশ, টুনা, রুই, কাতলা, চিংড়ি, কড মাছ
• কোরাল ও লইট্টা মাছ
• দেশি ডিম ও চারণভূমিতে পালনকৃত পশুর মাংস
উদ্ভিজ্জ উৎসে পাওয়া যায়:
• তিসি বীজ, চিয়া বীজ, তিল, সয়াবিন, আখরোট
• সামুদ্রিক শৈবাল (স্পিরুলিনা)
• ফল: অ্যাভোকাডো, পেঁপে, কিউই, কলা
এক মুঠো তিসি বীজ থেকে ২,৪০০ মিলিগ্রাম ও তিনটি আখরোট থেকে ১,২৮০ মিলিগ্রাম এএলএ পাওয়া যায়।
পরামর্শ:
• যেসব শিশু মাছ খেতে চায় না, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট দেওয়া যেতে পারে।
• নিরামিষাশীরা উদ্ভিদজাত উৎসের পাশাপাশি প্রোবায়োটিক ও সাইট্রাস জাতীয় ফল খেতে পারেন।
• প্যাকেটজাত খাবারে ওমেগা-৩ রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হতে লেবেল দেখে নেওয়া জরুরি।
• শিশুর খাবার ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ তেল দিয়ে রান্না করুন।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ