
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence - AI) একসময় ভবিষ্যতের প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচিত হলেও, এখন তা বাস্তবতার অংশ হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রশাসন, পরিবহন থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা খাত পর্যন্ত—এআই ব্যবহার বিশ্বজুড়ে রীতিমতো বিপ্লব ঘটাচ্ছে। এই প্রযুক্তির উন্নয়ন ও প্রয়োগে এগিয়ে রয়েছে কিছু নির্দিষ্ট দেশ, যারা গবেষণা, বিনিয়োগ ও নীতিনির্ধারণে রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
নিচে বিশ্বে এআইয়ে অগ্রণী ৫টি দেশের সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
১. যুক্তরাষ্ট্র
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। দেশটির সিলিকন ভ্যালিভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো—যেমন গুগল, মাইক্রোসফট, ওপেনএআই, এনভিডিয়া—এআই গবেষণায় অগ্রগণ্য ভূমিকা রাখছে। ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে এ খাতে ৪৭০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ হয়েছে।
এই বিনিয়োগের মাধ্যমে ভাষা প্রক্রিয়াকরণ, স্বয়ংক্রিয় যানবাহন, স্বাস্থ্যসেবা ও আর্থিক খাতে এআই প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। গবেষণা, একাডেমিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় এআই উদ্ভাবনে যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে রাখছে।
২. চীন
চীন সরকারের নেতৃত্বে এআই খাতে বিপুল অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। ২০২৪ সালে দেশটি প্রায় ১১৯ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে এ খাতে। চীনা প্রযুক্তি জায়ান্ট যেমন বাইদু, আলিবাবা, টেনসেন্ট স্মার্ট শহর, পরিবহন, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবায় এআই ব্যবহার বাড়িয়ে তুলেছে।
সরকার ‘নেক্সট জেনারেশন এআই ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সামরিক, শিল্প ও জনসেবামূলক ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।
৩. যুক্তরাজ্য
যুক্তরাজ্য এআইয়ের নৈতিক দিক, গবেষণা ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে এবং ডিপমাইন্ড-এর মতো প্রতিষ্ঠান গবেষণার গতি বাড়িয়েছে।
সরকারের ‘এআই অ্যাকশন প্ল্যান’ ও অন্যান্য নীতিমালার মাধ্যমে স্বাস্থ্য, আইন, শিক্ষা ও পর্যটনে এআই প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। স্টার্টআপ সংস্কৃতিও এ খাতে প্রবৃদ্ধি ঘটাচ্ছে।
৪. কানাডা
গভীর শিক্ষণ (Deep Learning) ও রোবোটিকস গবেষণায় কানাডা একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ভেক্টর ইনস্টিটিউট ও মিলা’র মতো গবেষণা প্রতিষ্ঠান দেশটির এআই অগ্রগতিকে দৃঢ় করেছে।
সরকার ও বেসরকারি খাতের যৌথ বিনিয়োগ প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। কানাডার একাডেমিক পরিবেশ ও উদ্ভাবনী শক্তি নতুন প্রজন্মের এআই প্রযুক্তি গড়ে তুলছে।
৫. ইসরায়েল
এআই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি ‘টেক সুপার পাওয়ার’ হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছে ইসরায়েল। দেশটিতে প্রায় ৪৪০টির বেশি এআই স্টার্টআপ রয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা, সামরিক প্রযুক্তি এবং স্বয়ংক্রিয় যানবাহনে এআই ব্যবহারে ইসরায়েল বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছে।
সরকার-বেসরকারি যৌথ বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এই প্রযুক্তিকে অর্থনৈতিক অগ্রগতির কৌশলগত অস্ত্রে পরিণত করেছে দেশটি।
বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীন শীর্ষস্থান ধরে রাখলেও, অন্যান্য দেশও নিজেদের বৈশ্বিক অবস্থান শক্তিশালী করতে এআই খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ ও গবেষণায় মনোযোগ দিচ্ছে। আগামী দিনের বিশ্ব নেতৃত্ব অনেকাংশে নির্ভর করবে কে কতটা দক্ষভাবে এআইকে কাজে লাগাতে পারে তার ওপর।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ