প্রকাশ: বুধবার, ৩০ জুলাই, ২০২৫, ১২:৩৭ পিএম আপডেট: ৩০.০৭.২০২৫ ১২:৫১ PM

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে নিজেকে বাল্যবিবাহের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুল শিক্ষার্থী।
নিজের ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও বিয়ের তোড়জোড় শুরু হলে সে প্রধান শিক্ষকের কাছে তার বাল্যবিবাহ বন্ধ করার সহায়তা চেয়ে লিখিতভাবে আবেদন করে।
আবেদনে শিক্ষার্থী উল্লেখ করে, তার জন্ম ২০১২ সালের ১৮ জুন। বর্তমানে তিনি সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় পরিবার তাকে জোর করে বাল্যবিবাহ দিতে চাইছে। কিন্তু এই বিয়েতে কোনোভাবেই সে রাজি নয়।
ঘটনার সত্যতা যাচাই করে এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পঙ্কজ শর্মা বলেন, শিক্ষার্থীর কাছ থেকে লিখিত আবেদন পাওয়ার পরপরই আমি বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) কে অবগত করি।
তিনি আরো বলেন, মেয়েটির পড়াশোনা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেই বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।
শিক্ষার্থীর মা বলেন, “বিয়ের বিষয়ে কিছু আলোচনা হয়েছে পারিবারিকভাবে, তবে এখনো নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ ণির্ধারন করা হয়নি। পরে আমরা বিয়েতে অমত থাকায় মেয়ের ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে সিদ্ধান্ত নেই, এখন আর মেয়ের বিয়ে দেব না।”
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুলতানা রাজিয়া জানান, একজন শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে এমন সচেতন ও সাহসী সিদ্ধান্ত অবশ্যই প্রশংসনীয়। আমরা খবর পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি। সেই সাথে শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের সাথেও কথা বলেছি। তারা কথা দিয়েছেন মেয়েকে আপাতত বিয়ে দেবেন না। তারপরও আমরা ঘটনাটি কঠোর নজরদারিতে রেখেছি।
ফরিদগঞ্জ থানার (ওসি) মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, “উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে আমরা পরামর্শ দিয়েছি। এই ঘটনায় ইউএনও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন এবং আমরা পুলিশি সহায়তা দিই।”
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে