প্রকাশ: শনিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৫, ৩:২৮ পিএম

বিক্ষোভ মিছিলটি ফুলবাড়ি কবরস্থান থেকে বের হয়ে রৌমারী থানা গেটে এসে অবস্থান করেন।
রৌমারীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় রৌমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার দিন রাতে নিহতের ভাই শাহাজামাল বাদী হয়ে ৩৪ জন নামীয় ও অজ্ঞাত ১০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আজ শনিবার (২৬ জুলাই) নিহতদের লাশ সামনে রেখে হত্যার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন এলাকাবাসি ও স্বজনরা। বিক্ষোভ মিছিলটি ফুলবাড়ি কবরস্থান থেকে বের হয়ে রৌমারী থানা গেটে এসে অবস্থান করেন। এরপর রৌমারী থানার ওসি লুৎফর রহমান পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা সেখান থেকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে মিলিত হয়।
জানা যায়, এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন, আপেল মিয়া, আব্দুল মজিদ, নুর মোহাম্মদ, কিনেজা খাতুন ও সাইবানি বেগম।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভুন্দুর চর গ্রামে জমিতে চাষাবাদকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ফুলবাবু, বুলু মিয়া ও নুরুল আমিন নিহত হয়। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের নারী-পুরুষসহ আহত হয়েছেন অনন্ত ১১ জন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম মর্গে প্রেরণ করেন। ঘটনার পর কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
আরো জানা যায়, গোলাম শহীদের পুত্র শাহ জামাল ও চাচা গোলাম রব্বানীর মধ্যে দীর্ঘ ১৫ বছর যাবত প্রায় ৩ একর জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে উভয় পক্ষে কয়েক দফা মারামারি এবং আদালত ও থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা রয়েছে। ঘটনার দিন বিরোধপূর্ণ জমিতে শাহজামালের ছেলে কাচা ও আরিফ হালচাষ করছিল। এসময় গোলাম রব্বানীর পক্ষের লোকজন আপেল, নুর মোহাম্মদ, আ. মজিদসহ ৩০-৪০ জন দেশীয় ধারালো অস্ত্র দাঁ, কুড়াল, টেঁটা নিয়ে সজ্জিত হয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ করে হালচাষে বাধা দেয়। এতে উভয়ে পক্ষের বাকবিতন্ডতায় একপর্যায়ে দু’পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে শাহজামালের পক্ষের ফুলবাবু, বুলু মিয়া ও নুরুল আমিন নামের চাচা-ভাতিজা ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এরপর, ময়না তদন্ত শেষে শুক্রবার নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন পুলিশ।
রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ লুৎফর রহমান জানান, এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। বাকি আসামিদের আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।