প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ জুলাই, ২০২৫, ৫:২২ পিএম আপডেট: ২৫.০৭.২০২৫ ৫:৩১ PM

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়াতে নতুন পে কমিশন গঠন করেছে সরকার। তবে এই উদ্যোগ বেসরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন সংকট সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নতুন পে কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানকে এই কমিশনের প্রধান করা হয়েছে। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২০১৫ সালের পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন। প্রায় ১৫ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকসহ এই সংখ্যা ২২ লাখ ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৬ কোটি কর্মজীবী মানুষের মধ্যে ৫.৫ কোটিরও বেশি কাজ করছেন বেসরকারি ও অনানুষ্ঠানিক খাতে।
বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকারি-বেসরকারি সব শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ বেড়েছে। অথচ বেসরকারি খাতে দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের বেতন বৃদ্ধির উদ্যোগ নেই।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, “মূল্যস্ফীতির চাপ সবার ওপর। অথচ শুধু সরকারি খাতে বেতন বাড়ানো হলে বেসরকারি চাকরিজীবীরা চাপে পড়বেন, যা বৈষম্য বাড়াবে।”
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১১.৬৬ শতাংশ। চলতি বছরের জুনে তা কিছুটা কমে ৮.৪৮ শতাংশে এলেও নিত্যপণ্যের দাম এখনো তুলনামূলক বেশি। বাজারে চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে স্থিতিশীলতা না আসায় সাধারণ মানুষ খরচ কমিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পে কমিশনের মাধ্যমে সরকারি বেতন বাড়ালে একদিকে মূল্যস্ফীতি বাড়বে, অন্যদিকে বেসরকারি খাতে বৈষম্য আরও গভীর হবে। তাই সামগ্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ