প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ জুলাই, ২০২৫, ৪:৫০ পিএম আপডেট: ২৫.০৭.২০২৫ ৭:৫১ PM

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার এক দরিদ্র ভ্যানচালকের মেয়ে মারুফা আক্তার মায়া এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেও কলেজে ভর্তি হওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে। অভাব-অনটনের সংসারে বেড়ে ওঠা এই মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন বড় হয়ে ডাক্তার হওয়ার, কিন্তু সামান্য ভর্তি ফি জোগাড় করতে না পারায় তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
মায়া জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার ধরঞ্জী ইউনিয়নের নন্দইল গ্রামের বাসিন্দা। সে ধরঞ্জী কুতুবিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে।
তার বাবা মুরশিদুল ইসলাম একজন ভ্যানচালক। দিনে আয় না হলে সেই দিন পরিবারে ভাতও রান্না হয় না। পাঁচ সদস্যের সংসারে প্রতিনিয়ত টানাপোড়েন চললেও মেয়ের পড়ালেখায় কোনো ছাড় দিতে চাননি বাবা-মা। কিন্তু এখন কলেজে ভর্তি করানোর মতো সামর্থ্য তাদের নেই।
মায়া বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হবো। অনেক কষ্ট করে এইচএসসি পর্যন্ত পড়তে চাই। কিন্তু টাকার অভাবে ভর্তি হতে পারব কি না- এই চিন্তায় দিন কাটছে।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মায়া খুবই মেধাবী ও মনোযোগী ছাত্রী। সে অনেক কষ্ট করে এখানে এসএসসি পর্যন্ত পড়েছে। আশা করি, কোনো সহৃদয় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তার পাশে দাঁড়াবে।’
প্রতিবেশী গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘মায়ার বাবা খুব গরিব। এমন মেধাবী মেয়ের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেলে তা শুধু এক পরিবারের নয়, পুরো সমাজের ক্ষতি।’
মায়ার বাবা মুরশিদুল বলেন, ‘আমার মেয়ে খুব আগ্রহ নিয়ে পড়ালেখা করে। কিন্তু এখন ভর্তি করানোর মতো টাকাও নেই। যদি সরকার বা কোনো দয়ালু মানুষ সাহায্য করতেন, তাহলে আমার মেয়েটা লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারত।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম