
সংগৃহীত ছবি
বর্তমানে বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে টাইপ ১ ডায়াবেটিস একটি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এটি মূলত একটি বংশগত ও অটোইমিউন রোগ হলেও, দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় সচেতনতা ও চিকিৎসা সুবিধার সীমাবদ্ধতা এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে।
টাইপ ১ ডায়াবেটিস কী?
টাইপ ১ ডায়াবেটিস এমন একটি অবস্থা, যেখানে শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণে ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না।
ইনসুলিন হলো এক ধরনের হরমোন, যা রক্তে শর্করার (গ্লুকোজ) মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ইনসুলিন না থাকলে গ্লুকোজ কোষে প্রবেশ করতে পারে না, ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়।
এই রোগটি একটি অটোইমিউন অবস্থা অর্থাৎ, দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষকে ধ্বংস করে ফেলে।
শিশুদের টাইপ ১ ডায়াবেটিসের লক্ষণ
১. ঘন ঘন প্রস্রাব
২. অতিরিক্ত পিপাসা
৩. দ্রুত ওজন কমে যাওয়া
৪. সবসময় ক্ষুধা লাগা
৫. দুর্বলতা বা ক্লান্তি
৬. ঘন ঘন ইনফেকশন (যেমন: চামড়ায় র্যাশ বা ফাংগাল ইনফেকশন)
৭. ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা
এসব লক্ষণ অনেক সময় অবহেলিত হয়, ফলে পরিস্থিতি খারাপ হয়ে কোমার মতো জটিল অবস্থাও দেখা দিতে পারে।
বাংলাদেশে শিশুদের টাইপ ১ ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতা এখনো অনেক কম। অনেক বাবা-মা মনে করেন, ডায়াবেটিস কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের রোগ। এমনকি শহরের অনেক চিকিৎসকও এই রোগ শনাক্তে দেরি করে ফেলেন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে কিছু চ্যালেঞ্জ
১. ইনসুলিন ব্যবহারে লজ্জা বা ভয়
২. ইনসুলিন সংরক্ষণ ও ইনজেকশন দেওয়া পরিবারের জন্য কষ্টসাধ্য
৩. স্কুলে ডায়াবেটিক শিশুদের জন্য নেই কোনো বিশেষ সহায়তা
৪. দরিদ্র শিশুরা ঠিকমতো ইনসুলিন ও পুষ্টিকর খাবার পায় না
চিকিৎসা ও করণীয়
টাইপ ১ ডায়াবেটিসের স্থায়ী চিকিৎসা না থাকলেও সঠিক চিকিৎসা ও নিয়মিত যত্নে শিশুরা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।
যা করণীয়
১. নিয়মিত ইনসুলিন নিতে হবে
২. নির্দিষ্ট সময়ে রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা করা
৩. স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণ
৪. নিয়মিত শরীরচর্চা (বয়স অনুযায়ী)
৫. চিকিৎসকের পরামর্শমতো জীবনযাপন
বাবা-মা ও শিক্ষকের দায়িত্ব
১. শিশুর লক্ষণ দেখলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে
২. ইনসুলিন নিয়ে কোনো লজ্জা বা ভুল ধারণা দূর করতে হবে
৩. স্কুলে সহপাঠী ও শিক্ষকদের সচেতন করতে হবে, যেন শিশু মানসিক চাপ অনুভব না করে
৪. পরিবারে ভালোবাসা ও মানসিক সহায়তা দিতে হবে
টাইপ ১ ডায়াবেটিস শিশুদের জীবনে একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হলেও এটি জীবনকে থামিয়ে দেয় না। যথাযথ চিকিৎসা, পরিবার ও সমাজের সহানুভূতি এবং সচেতনতা থাকলে শিশুরা এই অসুস্থতা নিয়েও সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন কাটাতে পারে।