
রাগ বা ক্রোধ- এটি মানুষের একটি স্বাভাবিক আবেগ। তবে রাগ যখন সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন তা ধ্বংসের কারণ হতে পারে। ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে মানুষের প্রতিটি আবেগ ও আচরণকে সঠিক পথে পরিচালিত করার উপদেশ দেয়। রাগ নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কেও কুরআন ও হাদিসে এসেছে দিকনির্দেশনা।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,‘রাগ আসে শয়তানের পক্ষ থেকে; শয়তানকে তৈরি করা হয়েছে আগুন থেকে আর একমাত্র পানির মাধ্যমেই আগুন নেভানো সম্ভব। তাই তোমাদের কেউ যখন রাগান্বিত হবে, তার উচিত অজু করা।’(আবু দাউদ : ৪৭৮৪)
এই হাদিসে বোঝা যায়, রাগ একটি মানসিক আগুনের মতো, যা শয়তান থেকে উদ্ভূত। আর অজু বা পানি ব্যবহার করে সেই আগুনকে প্রশমিত করার পরামর্শ দিয়েছেন নবীজি (সা.)।
এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, আপনি আমাকে অসিয়ত করুন। তিনি বললেন, ‘তুমি রাগ করো না।’ ওই ব্যক্তি কয়েকবার তা বললেন, নবীজি (সা.) প্রতিবারই বললেন, ‘রাগ করোনা।’(বুখারি, হাদিস নং-৬১১৬)
এই হাদিসে বোঝা যায়, একজন মানুষের চরিত্র গঠনে রাগ নিয়ন্ত্রণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ রাগান্বিত হয়ে পড়লে তখন দাঁড়িয়ে থাকলে বসে পড়বে। এতে রাগ কমে গেলে ভালো; না কমলে শুয়ে পড়বে।’(আবু দাউদ : ৪৭৮২)
এই উপদেশে রাগ প্রশমনের বাস্তবধর্মী এবং সহজ কৌশল শিখিয়েছেন নবীজি (সা.)। অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে শরীর ও মন শান্ত হয়।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেন, ‘যারা নিজেদের ক্রোধ দমন করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে- আল্লাহ তেমন সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।’(সূরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৩৪)
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ঘোষণা করছেন- ‘আর নিজ পালনকর্তার পক্ষ থেকে ক্ষমা ও সেই জান্নাত লাভের জন্য ছুটে চল যার প্রশস্ততা এ পরিমাণ যে, তার মধ্যে আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী ধরে যাবে। তা সেসব মুত্তাকিদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে- যারা সচ্ছল এবং অসচ্ছল অবস্থায় ব্যয় করে। যারা নিজের ক্রোধ হজম করতে ও মানুষকে ক্ষমা করতে অভ্যস্ত। আল্লাহ এরূপ পুণ্যবানদের ভালোবাসেন এবং তারা সেই সব লোক যারা কখনো কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেললে বা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে সাথে সাথে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তার ফলে নিজেদের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া আর কেইবা আছে যিনি গুনাহ ক্ষমা করতে পারেন? আর তারা জেনেশুনে তাদের কৃতকর্মে অবিচল থাকে না। এরাই সেই লোক, যাদের পুরস্কার হচ্ছে তাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে ক্ষমা এবং সেই জান্নাত যার তলদেশে নহর প্রবাহিত। যেখানে তারা চিরদিন থাকবে। তা কতই না উৎকৃষ্ট, প্রতিদান যা আমলকারীরা লাভ করবে।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৩৩-১৩৬)
রাগ, যদি নিয়ন্ত্রণহীন হয়, তাহলে তা ব্যক্তিগত সম্পর্ক, সামাজিক পরিবেশ ও আত্মার শান্তি নষ্ট করে দেয়। ইসলাম আমাদের রাগ নিয়ন্ত্রণের সহজ ও বাস্তবসম্মত উপায় শিখিয়েছে- অজু করা, অবস্থান পরিবর্তন, আল্লাহকে স্মরণ এবং ক্ষমার অভ্যাস গড়ে তোলা।
আসুন, আমরা রাগ নয়, ক্ষমাকে ভালোবাসি। কারণ আল্লাহ তায়ালাও ক্ষমাশীলদের ভালোবাসেন।
লেখক ও কলামিস্ট: মাহবুব উল আলম
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম