বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই, বন্যার আশঙ্কা
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২১ জুলাই, ২০২৫, ১১:৪৩ AM

ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই করছে। এতে আতঙ্কে পরেছে তিস্তাপাড়ের মানুষ। পানি বেড়ে যাওয়ায় নদী সংলগ্ন এলাকার ফসলের জমি পানির নিচে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের বোর্ডের সদস্যরা।

গতকাল রোববার (২০ জুলাই) তিস্তা ব্যারাজ কন্ট্রোল রুম ইনচার্জ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘উজানের ঢলে রবিবার ভোর থেকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারাজের ৪৪ গেট খুলে রাখা হয়েছে ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় পানি যে কোনো সময় বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’

তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ‘পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। আমরা সতর্ক আছি। চরের মানুষকে আমরা সতর্ক থাকতে বলেছি। যে কোনো সময় বন্যা হতে পারে বলে আশঙ্ক করা হচ্ছে।’

জানা যায়, নীলফামারী জেলা সদর উপজেলার তিস্ত সেচ প্রকল্পের বামতীর বাঁধ ভেঙে রোপা আমনের খেতসহ বিস্তৃীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে তিস্তার দিনাজপুর সেচ খালের চাঁদেরহাট স্লুইচ গেট থেকে নীলফামারী সদর, দিনাজপুরের খানসামা ও চিরিরবন্দর এলাকায় খরিপ-২ মৌসুমের সেচের পানি প্রদান বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

রোববার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে সদরের কালিতলা ভাট্টাতলি নামক স্থানে বামতীর বাঁধ ভেঙে যায়। নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ (পাউবোর) নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। ধারণা করা হচ্ছে রাতে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাড়ের মাটির ওপর চাপ পড়ে যায়।

ওই এলাকার বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, ‘নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে রাতে বাড়িঘরেও পানি ঢুকে পড়বে।’

তিস্তা নদী এলাকার বাসিন্দা কুদ্দুস মিয়া বলেন, ‘আমরা নদী পাড়ের মানুষ সবসময় আতঙ্কে থাকি। বন্যা, খরা নদী ভাঙনের সঙ্গে যুদ্ধ করে আমাদের জীবন অতিবাহিত হয়। বিশেষ করে ভারতের উজানে যে গেট রয়েছে তার নাম গজলডোবা। এটি পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। খরা মৌসুমে গেটটি বন্ধ রাখা হয় আর বর্ষা এলেই থেমে থেমে পানি ছেড়ে দিয়ে আমাদেরকে ভাসিয়ে দেয় ভারত। কারণ বৃষ্টির পানিতে বন্যা হয় না, বন্যা হয় ভারতের উজানের পানিতে।’

লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান বাদল বলেন, ‘উজানের ঢলে চরের অনেক ফসল ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে। শনিবার রাতের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বাঁধ ভেঙে যায়। তিস্তা সেচ খালের বাঁধ ভেঙে বিস্তৃীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে পাড়ের ৩০ ফিট জমি স্রোতে ভেঙ্গে পরে। ভাঙ্গা অংশে প্রাথমিক ভাবে জিও ব্যাগ ও মাটি দিয়ে কোনো রকম মেরামত করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভাঙ্গনের ফলে এলাকার প্রায় ৩০ একর রোপা আমন খেত এবং ঢ্যাঁড়শ, মরিচ, বিভিন্ন শাক-সবজির খেত পানিতে তলিয়ে গেছে।’

অপর কৃষক মোজাম্মেল আলী বলেন, আমার ৫ বিঘা জমির রোপা আমন খেত পানির নিচে ডুবে গেছে।


স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে




আরও সংবাদ   বিষয়:  তিস্তা   পানি   বন্যা  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close