প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ জুলাই, ২০২৫, ৮:৪০ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় দেড় কোটি টাকা কাজে না লাগানোয় তা বাতিল হয়ে গেছে।
পিইডিপি-৪ (প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি-৪) এর আওতায় বরাদ্দ পাওয়া এই অর্থ সময়মতো দরপত্র আহ্বান না করায় সরকারি কোষাগারে ফেরত চলে গেছে। এতে করে উপজেলার অন্তত ৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম থমকে গেছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ পাওয়া এ অর্থ ছাদ, দরজা-জানালা, শৌচাগার, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যবহারের কথা ছিল। কিন্তু উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দরপত্র আহ্বান করতে ব্যর্থ হয়। ফলে বরাদ্দ বাতিল হয়ে যায়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব চৌধুরী বলেন, “PEDP-4 প্রকল্পের অর্থ বাতিল হয়ে গেছে। আমরা আগামী অর্থবছরে নতুনভাবে আবেদন করব। প্রকৌশলী মো. মাহাবুব হোসেনের কাছ থেকে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।”
প্রকৌশলী মাহাবুব হোসেন দাবি করেন, প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও এলজিইডির প্রধান কার্যালয় থেকে অনুমোদন না আসায় স্থানীয়ভাবে টেন্ডার ডাকা সম্ভব হয়নি।
তবে অনেকেই এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করছেন না। স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলার অন্যান্য উপজেলায় একই প্রকল্পের আওতায় কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেলেও নবীনগরে কোনো অগ্রগতি হয়নি। স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রকল্পে ‘কমিশন সুবিধা’ না থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উদাসীন ছিলেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম সবুজ বলেন, “এটি শুধু টাকার অপচয় নয়, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ওপর সরাসরি আঘাত। যার গাফিলতিতে অর্থ ফেরত গেছে, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ