প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ জুলাই, ২০২৫, ১২:৫৫ পিএম

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ এবং গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় ৭৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার (১৮ জুলাই) গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিসুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন সময় সংবাদকে।
১৬ জুলাই এনসিপি’র ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর জেরে বুধবার রাত ৮ টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ ঘোষণা করে।
তবে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল রয়েছে। এই সময় জেলায় অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ছিল চোখে পড়ার মতো।
গত রাতে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে প্রায় ৪৫ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। অভিযানে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
১৬ জুলাই সকালে এনসিপির কর্মসূচির দিন, সদর উপজেলায় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়, এবং একই সময়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িবহরে হামলা হয়।
দুপুরে এনসিপির সমাবেশ মঞ্চে হামলা চালায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সমর্থকরা। তারা মঞ্চের সাউন্ড সিস্টেম ও চেয়ার ভাঙচুর করে এবং নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। পুলিশের সহায়তায় এনসিপির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
আধঘণ্টা পর পুলিশি নিরাপত্তায় পুনরায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম ও আখতার হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। কিন্তু সমাবেশ শেষে ফেরার পথে এনসিপির গাড়িবহরে আবারও হামলা হয়।
এরপর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে হামলাকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়, যা গোপালগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিজিবি ও সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়।
প্রথমে এনসিপির নেতাকর্মীরা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। পরে সেনাবাহিনীর এপিসি (সাঁজোয়া যান) করে তাদের খুলনায় সরিয়ে নেওয়া হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম