
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পুতুলনাট্যকে তুলে ধরতে সার্ক কালচারাল সেন্টার, শ্রীলঙ্কা আয়োজিত তিনদিনব্যাপী পাপেট্রি ফেস্ট ২০২৫-এ অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পুতুলনাট্য দল "বাংলাদেশের পুতুলনাট্য গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র"।
শনিবার (১২ জুলাই) বাংলাদেশের পুতুলনাট্য গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. রশীদ হারুন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী রোববার (১৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয় দলটি শ্রীলঙ্কার উদ্দেশ্যে রওনা হবে। মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে ১৫ থেকে ১৭ জুলাই কলম্বো, হোরানা এবং আম্বালানগোডার পাপেট ভিলেজ ও পাপেট মিউজিয়ামে। পরিবেশ ও প্রকৃতি বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত এই উৎসবে বাংলাদেশ ছাড়াও অংশ নিচ্ছে ভারতের ‘ডলস থিয়েটার’ এবং শ্রীলঙ্কার একাধিক পুতুলনাট্য দল। এ আয়োজনে শুধু নাট্য পরিবেশনা নয়, পাশাপাশি থাকছে সেমিনার, ওয়ার্কশপ, পাপেট ক্যাম্প এবং আন্তঃদেশীয় সাংস্কৃতিক সংযোগমূলক নানা কার্যক্রম।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দল পরিবেশন করবে পুতুলনাট্য ‘মানুষ’ (HUMAN)। আরব্য রজনীর গল্প অবলম্বনে রচিত এই নাট্য রচনা করেছেন রকিব হাসান, পুতুলনাট্য পরিকল্পনা, গবেষণা ও সৃজন করেছেন ড. রশীদ হারুন। নাটকের মূল উপজীব্য প্রকৃতি ও প্রাণিকুলের আশঙ্কা ও আতঙ্ক: মানুষ এলে বন ধ্বংস হবে, প্রাণীকুল নিঃশেষ হয়ে যাবে, কারণ মানুষের কাছ থেকে কেউই নিরাপদ নয়। এই গল্পের মধ্য দিয়ে পরিবেশ-প্রতিবেশ সংরক্ষণে মানুষের ভূমিকা ও দায়বদ্ধতা তুলে ধরা হবে।
এই পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করবেন: ড. আশরাফুল হাবিব মাসুদ, ফাহমিদা মল্লিক মিতা, তানজিম তাজওয়ার, আসাদুজ্জামান আশিক, মিথিলা জাহান, সোনিয়া ইয়াসমিন, মনামী ইসলাম কনক, মোহাম্মদ রবিন মিয়া এবং কৃত্তিকা হাবিব সিথান।
জানা গেছে, এবারই প্রথম সার্ক কালচারাল সেন্টার কর্তৃক আয়োজিত ‘পাপেট ফেস্ট’-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করছে "বাংলাদেশের পুতুলনাট্য গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র"। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. রশীদ হারুন বলেন এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশগ্রহণ শুধু আমাদের সংগঠনের জন্য নয়, গোটা বাংলাদেশের পুতুলনাট্য ঐতিহ্যের জন্য গর্বের বিষয়। আমরা আশাবাদী, পুতুলনাট্য শিল্পকলার এই যাত্রা বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জ্যোতি ছড়িয়ে দেবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে