
রাজবাড়ীর পাংশায় অর্ধশতাধিক বসতবাড়িতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
রাজবাড়ীর পাংশায় আধিপত্য বিস্তার করাকে কেন্দ্র করে অর্ধশতাধিক বসতবাড়িতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৮জুলাই) সকাল ১০টায় উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়নের ভাতশালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অবসরপ্রাপ্ত লে. জেনারেল এস এম মতিউর রহমান (জুয়েল) এর বাড়িসহ প্রায় অর্ধশতাধিক বসতবাড়িতে হামলা ও লুটপাটের এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী টহল জোরদার করেছে।
আহতরা হলেন, ওই এলাকার আমির হোসেনের ছেলে তছির আহম্মেদ (২৯), লুৎফর মোল্লার ছেলে তন্ময় (১৪),মুল্লুক মোল্লার ছেলে ইসমাইল (১৫), মৃত শমসের আলির ছেলে তাহিদ হোসেন (৫০) ও তানজিদ হোসেন (৪৫)। তারা সবাই পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ,মোসলেম খাঁন এর নেতৃত্বে সুবর্ণ খোলা গ্রামের মিরাজ খান,একই গ্রামের জসিম খানের ছেলে সাদ খান, নটাভাঙা গ্রামের হুজুর আলী,তরুণ,শহিদুল মোল্লা,কাজল খাঁন,সুবহান খান ও ফরিদ খাঁন হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে।
কসবমাজাইল ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি লালচাঁদ বলেন, “হামলাকারীরা আমার বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করে নগর অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটপাট করে নিয়ে গেছে। শুধু আমার বাড়ি না, আমাদের এলাকার গর্ব অবসরপ্রাপ্ত লে. জেনারেল এস এম মতিউর স্যারের বাড়িসহ অর্ধশতাধিক বাড়িতে ভাঙচুর করে লুটপাট করে নিয়ে গেছে হামলাকারীরা।”
তিনি আরো বলেন, “হামলাকারীদের ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগের সাথে দেখা যেতো। এখন তারা আবার আওয়ামীলীগের লোকজন সাথে নিয়ে আমাদের উপর হামলা চালাচ্ছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
স্থানীয় মসজিদের ইমাম বলেন, “যখন হামলা হয় সে সময় আমি মসজিদে সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। প্রায় ৫০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গ্রামের বেশিরভাগ বাড়িতে হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষের জানমালের প্রচুর ক্ষতি করে। তারা জুয়েল স্যারের বাড়িতেও হামলা চালায়।”
অবসরপ্রাপ্ত লে. জেনারেল এস এম মতিউর রহমান (জুয়েল) মুঠোফোনে বলেন, “আমি কখনো কল্পনা করতে পারি নাই আমার বাড়িতে হামলা হবে। তারা শুধু আমার বাড়িতেই হামলা করে নাই। তারা আমার গ্রামের অর্ধশতাধিক বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট করেছে। এখন প্রতিটি বাড়ির লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।”
পাংশা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, “অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাসহ বেশি কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর হয়েছে। এ ঘটনায় মুক্তি নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। এখন ওই এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।”