
বিশ্বকাপজয়ী লিওনেল মেসির উপস্থিতি দর্শক-সমর্থকদের আশার আলো জাগালেও ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি) কোনো প্রকার ছাড় দেয়নি। আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে রোববার রাতে ক্লাব বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ইন্টার মায়ামিকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দাপটের সঙ্গেই শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে লুইস এনরিকের দল।
প্রথমার্ধেই ম্যাচ শেষ করে দেয় পিএসজি। পর্তুগিজ মিডফিল্ডার জোয়াও নেভেসের জোড়া গোল, মরক্কান ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমির এক গোল এবং একটি আত্মঘাতী গোলে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা। পুরো ম্যাচে মায়ামি বল দখলে, আক্রমণে, কিংবা রক্ষণে—কোনো ক্ষেত্রেই পিএসজিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি।
ম্যাচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু সাবেক ক্লাব পিএসজির বিপক্ষে তিনি ছিলেন কার্যত একা। বলের যোগান পাননি, পেলেও সামনে ছিলেন ফ্যাবিয়ান রুইজ ও স্ক্রিনিয়ারের মতো কঠিন প্রতিপক্ষ। একবার অবশ্য জোরালো হেডে গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন মেসি, তবে তা ঠেকিয়ে দেন ইতালিয়ান গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুমা।
লুইস সুয়ারেজও মেসির বানিয়ে দেওয়া সহজ একটি সুযোগ নষ্ট করেন, যা থেকে ব্যবধান কমার সম্ভাবনাও ছিল না। বুস্কেটস, আলবা বা অন্য মিডফিল্ডাররাও তেমন কিছু করতে পারেননি।
খেলা শুরু হতেই পিএসজি তাদের চেনা প্রেসিং ফুটবল শুরু করে। ৫ মিনিটেই নেভেসের হেডে এগিয়ে যায় ফরাসি ক্লাবটি। ৩৯ মিনিটে দ্বিতীয় গোলও আসে নেভেসের পা থেকে। ৪৪ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করেন মায়ামির ডিফেন্ডার টমাস এভিলেস। আর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে স্কোরলাইন ৪-০ করেন আশরাফ হাকিমি।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য মেসি ও মায়ামি ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করে। তবে পিএসজির রক্ষণভাগ ছিল আরও বেশি সংগঠিত। উসমান দেম্বেলে বদলি হিসেবে নামলেও বলার মতো প্রভাব ফেলতে পারেননি। তবে আর কোনো গোল না হলেও ম্যাচে পিএসজির আধিপত্য বজায় থাকে।
পিএসজি বল দখলে এগিয়ে ছিল ৬৭ শতাংশ, নেন ১৯টি শট, যার ৯টি ছিল গোলমুখে। মায়ামি ৭টি শটের মধ্যে ৩টি লক্ষ্যে রাখতে পারে।
এই জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী পিএসজি ক্লাব বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ অথবা ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গো।
আর লিওনেল মেসির ইন্টার মায়ামির বিশ্বকাপ যাত্রা থেমে গেল হতাশাজনক এক হারের মধ্য দিয়ে। দলের পারফরম্যান্সে তীব্র সমালোচনা থাকলেও, মেসি নিজের সর্বোচ্চটাই দেওয়ার চেষ্টা করেছেন—তবে সেটি যথেষ্ট ছিল না। মাঠে শিরোপার স্বপ্ন নয়, রয়ে গেল শুধুই হতাশা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর