
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন নিবন্ধনের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) শর্ত অনুযায়ী দলীয় গঠনতন্ত্র, কেন্দ্রীয় কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কমিটি, ভোটার তালিকাসহ সবকিছু গুছিয়ে আনছে নতুন এই রাজনৈতিক দলটি।
দলের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতীক নির্বাচন নিয়েই এখন আলোচনা সবচেয়ে বেশি। সম্ভাব্য প্রতীকের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা। এ ছাড়া সাদা ঘোড়া, চা পাতা, বই ও মুষ্টিবদ্ধ হাত প্রতীক হিসেবেও ভাবছে দলটি।
এনসিপির নেতারা মনে করছেন, বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের সংরক্ষিত প্রতীকগুলোর অনেকগুলোই সময়োপযোগী নয়। তারা এমন একটি প্রতীক চান, যা গণঅভ্যুত্থান ও জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে কাজ করবে।
আজ সোমবার রাজধানীর বাংলামটরে দলীয় কার্যালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানেই প্রতীকসহ নিবন্ধন সংক্রান্ত নানা বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার জানান, ‘নিবন্ধনের জন্য আমাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। ৮৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই আমরা আবেদন জমা দেব।’
অন্যদিকে দলটির দপ্তর সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত বলেন, ‘সারা দেশে ১২০টি উপজেলা এবং ৩০টি জেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভোটার তালিকা, গঠনতন্ত্রসহ প্রায় সব নথিপত্র প্রস্তুত। এক সপ্তাহের মধ্যেই ইসিতে আবেদন জমা দেওয়া হবে।’
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে দলের গঠনতন্ত্র, ইশতেহার, লোগো, পতাকার ছবি, কেন্দ্রীয় কমিটির তালিকা, দলীয় ব্যাংক হিসাব, তহবিলের উৎসসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
এনসিপির নেতারা জানিয়েছেন, বর্তমানে তাদের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয় রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে, তবে বাংলামটার, শাহবাগ বা সেগুনবাগিচা এলাকায় নতুন স্থায়ী কার্যালয়ের খোঁজ চলছে। সময় স্বল্পতার কারণে বর্তমান ঠিকানাকেই আপাতত স্থায়ী কার্যালয় হিসেবে দেখানো হতে পারে।
প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন ১০ মার্চ নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য গণবিজ্ঞপ্তি দেয়। আবেদনের সময়সীমা বাড়িয়ে ২০ জুন পর্যন্ত করা হয়।
দলটির নিবন্ধনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে বলে জানানো হয়েছে। এখন শুধু অপেক্ষা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং আবেদন জমা দেওয়ার।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম