প্রকাশ: রবিবার, ১৫ জুন, ২০২৫, ৬:৩৫ পিএম

দেশের পাঁচটি বেসরকারি ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে একটি একক ব্যাংকে রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। তবে এই একীভূতকরণে কোনো ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারাবেন না বলে আশ্বস্ত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর বলেন, “নির্বাচনের সঙ্গে ব্যাংক মার্জারের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। পরবর্তী সরকার এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে বলে আশা করছি। তবে নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা না করে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করা হবে।”
তিনি জানান, কর্মীদের চাকরি নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। তবে প্রয়োজনে কিছু শাখা স্থানান্তর করা হতে পারে। শহরে অধিক শাখা রয়েছে এমন ব্যাংকগুলোকে গ্রামীণ এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার চিন্তা রয়েছে।
পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে ধাপে ধাপে অগ্রসর
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারের বিষয়টি ধাপে ধাপে এগোতে হবে। আদালতের চূড়ান্ত রায় ছাড়া কোনো সম্পদ ফেরত আনা সম্ভব নয়।
“সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে আইনি নথিপত্র তৈরি করতে হবে। এরপর আদালতের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে আমাদের দাবি যথাযথ কি না। আদালতের সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত ভিত্তি,”— বলেন গভর্নর।
তিনি আরও জানান, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতির মাধ্যমেও কিছু সম্পদ ফেরত আনা সম্ভব হতে পারে। এ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের আইনজীবীরা আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
গভর্নর আরও বলেন, “কোন পথে (আদালত না এডিআর) এগোনো হবে, তা সরকার নির্ধারণ করবে। সরকারের নির্দেশনা পেলেই বাংলাদেশ ব্যাংক আইনি প্রস্তুতি নিয়ে আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবে।”
তিনি জানান, দেশীয় সম্পদ উদ্ধারে দেশের আদালতে এবং বিদেশি সম্পদ উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশের আদালতে মামলা পরিচালনা করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ