প্রকাশ: শনিবার, ১৪ জুন, ২০২৫, ৯:৩৬ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় বাবাকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদ করতে গিয়ে ‘চাঁদাবাজ’ বানানো হলো এক কিশোরকে। এ ঘটনায় আরও এক কিশোরকে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি ঘিরে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে।
শনিবার (১৪ জুন) বিকালে ভালুকার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের জামিরদিয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, ঈদের আগের দিন বাদশা টেক্সটাইল মিলের ২ নম্বর গেট এলাকায় রিকশাচালক সাইফুল ইসলাম এক নারী যাত্রীকে গন্তব্যে না নেওয়ায় আল আমিন, তার ভাই শামীম ও মেহেদী হাসান মিলে সাইফুলকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে শুক্রবার (১৩ জুন) সাইফুলের ছেলে সিফাত তার দুই সহপাঠীকে নিয়ে অভিযুক্তদের দোকানে যান। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সিফাত দোকানের শোকেজে লাথি মারেন বলে জানা যায়। তখনই দোকানের লোকজন তাদের হাতে খেলনা পিস্তল ধরিয়ে দিয়ে ‘ডাকাত ডাকাত’ বলে চিৎকার শুরু করেন এবং সেনাবাহিনী ক্যাম্পে ফোন করেন। সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত গিয়ে দুই কিশোরকে আটক করে ভালুকা মডেল থানায় হস্তান্তর করেন।
পরদিন মেহেদী হাসান বাদী হয়ে সিফাত ও সাদিকুল নামে দুই কিশোরের বিরুদ্ধে খেলনা পিস্তল দিয়ে চাঁদা দাবি ও দোকানে ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
সিফাতের বাবা সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, “আমি একজন রিকশাচালক। শুধুমাত্র একজন নারী যাত্রীকে গন্তব্যে না নেওয়ায় আমাকে মারধর করা হয়েছে। এরপর আমার ছেলে প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে ফাঁসানো হয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা হারুন বলেন, “সিফাত ও সাদিকুল শান্ত ও ভদ্র ছেলে হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তারা এমন অপরাধে জড়াতে পারে না। এটি সম্পূর্ণ সাজানো ঘটনা। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।”
অন্যদিকে মেহেদী হাসান বলেন, “তারা আমার দোকানে এসে শোকেজে পিস্তল রেখে গ্লাস ভাঙচুর করে। এরপর আমরা চিৎকার করলে লোকজন এসে তাদের ধরে সেনাবাহিনীকে খবর দেয়।”
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, “অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে। দুই কিশোরকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদেরকে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।”
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ