
ইসরায়েলের স্থল ও বিমান হামলায় গাজা উপত্যকায় শনিবার অন্তত ৫৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (GHF)-এর একটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন।
কেন্দ্রীয় গাজার আল-আউদা ও আল-আকসা হাসপাতালে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ত্রাণ নিতে আসা মানুষের ওপর চালানো হামলায় শুধু নেতসারিম করিডোর সংলগ্ন এলাকায়ই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৫ জন।
বাকি নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন গাজার বিভিন্ন এলাকায় চালানো পৃথক হামলায় মারা যান।
গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, GHF কার্যক্রম শুরুর পর গত এক মাসে ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রগুলোর আশপাশে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২৭৪ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন দুই হাজারের বেশি মানুষ।
GHF কর্তৃপক্ষ বলছে, শনিবার তারা কার্যক্রম স্থগিত রেখেছিল। কিন্তু এর মধ্যেও হাজারো মানুষ ত্রাণের আশায় সাইটগুলোতে ভিড় করেন—কারণ টানা ১৫ সপ্তাহের অবরোধ ও হামলায় গাজার মানুষ চরম দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছেন।
‘ত্রাণ নয়, যেন মৃত্যুর ফাঁদ’
আল জাজিরার প্রতিবেদক তারেক আবু আজজুম জানান, একের পর এক হামলায় গাজার মানুষ এখন এসব ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রকেই ‘মৃত্যুর ফাঁদ’ মনে করছেন। তবে বাঁচার আর কোনো উপায় না থাকায় প্রাণ ঝুঁকি নিয়ে ত্রাণের সন্ধানে ছুটছেন তারা।
চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল গাজায় পূর্ণ মানবিক অবরোধ শুরু করে। এতে খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি পণ্য সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। মে মাসের শেষদিকে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সামান্য কিছু ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দিলেও, তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা।
ঘটনার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও GHF কেউই কোনো মন্তব্য করেনি।
বিতর্কিত ত্রাণ মডেল
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত GHF নামের এই সংগঠনটি গত ২৭ মে থেকে গাজায় নতুন এক ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থা চালু করে। সংগঠনটির নেতৃত্বে রয়েছেন জনি মুর, যিনি ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণার উপদেষ্টা ছিলেন।
GHF-এর বিতরণব্যবস্থা জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ত্রাণ মডেলকে প্রতিস্থাপন করার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। তবে জাতিসংঘ বলছে, এই নতুন ত্রাণ ব্যবস্থা পক্ষপাতদুষ্ট এবং মানবিক সহায়তার নিরপেক্ষতার নীতিমালা লঙ্ঘন করছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে—হামাস জাতিসংঘের ত্রাণ সরঞ্জাম গোপনে বিক্রি করে তার সামরিক খাতে ব্যয় করছে, যদিও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ