
মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা ২০২৫ সালে এসে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৯৭৯ সালের পর এই প্রথমবারের মতো দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
২০২৪ সাল জুড়ে চলা হামলা-পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১৩ জুন, ইসরায়েল ইরানের একাধিক শহরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে। তেহরান, তাবরিজ, ইসফাহান, কেরমানশাহ, নাতাঞ্জসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে একযোগে এই আক্রমণ হয়।
আলজাজিরার সাংবাদিক দোরসা জাব্বারি বলেন, ‘এই হামলা ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত। এটি তাৎক্ষণিক কোনো অভিযান নয় বরং চলমান একটি সামরিক অভিযান, যার শেষ এখনও অনিশ্চিত।’
২০২৪ সালের প্রধান হামলাগুলোর টাইমলাইন:২ এপ্রিল ২০২৪: ইসরায়েল সিরিয়ার দামেস্কে ইরান দূতাবাসে বিমান হামলা চালায়।
৪ এপ্রিল ২০২৪: ইরান এর জবাবে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালায়।
১৬ অক্টোবর ২০২৪: ইসরায়েলের গোপন অভিযানে হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ ও ইরানের জেনারেল আব্বাস নিলফোরোশানকে লক্ষ্য করে হামলা।
১৯ অক্টোবর ২০২৪: ইরান ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়।
৭ এপ্রিল ও ২০ অক্টোবর: ইসরায়েল আবারও ইরানের সামরিক স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানে।
২০২৫ সালের টার্নিং পয়েন্ট:১৩ জুন ইসরায়েলের সর্ববৃহৎ সামরিক অভিযান- একাধিক শহরে বোমা হামলা ও রকেট আঘাত।
সামরিক শক্তির তুলনা (২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী):বিভাগ- ইসরায়েল- ইরান
সক্রিয় সেনা- ১,৬৯,৫০০ জন- ৬,১০,০০০ জন
রিজার্ভ সেনা- ৪,৬৫,০০০ জন- ৩,৫০,০০০ জন
প্রতিরক্ষা বাজেট- ২৭.৫ বিলিয়ন ডলার- ১০.৩ বিলিয়ন ডলার
যুদ্ধবিমান - ৩৪৫টি (F-35 সহ)- ৩১২টি + ২৩টি (IRGC)
আকাশ প্রতিরক্ষা আয়রন ডোম, ডেভিড’স স্লিং S-300, বাভার-৩৭৩, খোরদাদ
আর্টিলারি- ৫৩০টি- ৬,৭৯৮+টি
হেলিকপ্টার- ৪৩টি- ৫৭টি (৫টি IRGC)
সাবমেরিন- ৫টি- ১৭টি
ইসরায়েল আধুনিক প্রযুক্তি ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে, ইরান শক্তিশালী আর্টিলারি, বৃহৎ সেনাবাহিনী এবং রুশ ও নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে।
২০২৪ সালের ঘটনাগুলো ছিল সংঘাতের সূচনা মাত্র। কিন্তু ১৩ জুন ২০২৫-এর ইসরায়েলি অভিযান গোটা পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। এটি এখন আর শুধুই দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়- এর প্রভাব পড়ছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না আসে, তাহলে এ সংঘর্ষ আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
সূত্র: আজ জাজিরা
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম