
সংগৃহীত ছবি
৫ আগস্ট সরকার পতনের ঠিক আগেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা পাঠান বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। ওই সূত্রে বলা হয়, তিনি শুধু বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য এবং ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেন। এদের অনেকেই পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশে—যেমন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরে আশ্রয় নেন।
একজন প্রবাসী আত্মীয় জানান, শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বিকেলে পরিবারের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সদস্যের সঙ্গে বৈঠকে আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে সরকার টিকে থাকবে না। এরপর তিনি আত্মীয়দের উদ্দেশ্যে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান, যাতে লেখা ছিল, “No one stay here”—এই বার্তাটিকে দেশ ত্যাগের সরাসরি নির্দেশ হিসেবেই ব্যাখ্যা করা হয়।
সূত্র জানায়, ৪ আগস্ট কারফিউ চলাকালেই বার্তার নির্দেশনা অনুযায়ী শেখ হাসিনার এক আত্মীয় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেশ ত্যাগ করেন এবং পরে অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নেন। তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের একজন সাবেক সংসদ সদস্য এবং শেখ লুৎফুর রহমানের পক্ষের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়।
দেশ ছাড়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলে তখনকার পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানেন বলে স্বীকার করেন অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানকারী তার নিকটাত্মীয় আওয়ামী লীগের সাবেক এই এমপি।
তার মতে, শেখ হাসিনা ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট এবং তখনকার পরবর্তী পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করেছিলেন। এ কারণে জীবন বাঁচাতে আত্মীয়-স্বজনদের ওই মেসেজ পাঠিয়ে দ্রুত দেশ ছাড়তে বলেন তিনি।
শেখ হাসিনার এই নির্দেশ পাওয়ার পর ৩ আগস্ট থেকে এক এক করে আত্মীয়-স্বজনরা দেশ ছাড়তে শুরু করেন। সাবেক এই এমপি দাবি করেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তৎকালীন মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস সরকার পতনের দুই দিন আগে ৩ আগস্ট সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরেন। ঢাকা বিমানবন্দরে থাকতেই তাপসকে শেখ হাসিনার মৌখিক নির্দেশ সম্পর্কে অবহিত করা হয়। এরপর ফজলে নূর তাপস বিমানবন্দর থেকেই সিঙ্গাপুরে ফিরে যান।
জানা গেছে, শেখ হাসিনা আত্মীয়দের নিরাপদে বিদেশে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ৫ আগস্ট ছোট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে ভারত চলে যান। পরে শেখ রেহানা লন্ডন চলে যান।
সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই দিন আগে ৩ আগস্ট নিরাপত্তাবিষয়ক জাতীয় কমিটির সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছিলেন শেখ হাসিনা। এই কমিটির বৈঠকে সেদিন তিন বাহিনীর প্রধানরাও ছিলেন। ওই দিন তাদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়। সেই সঙ্গে পরোক্ষভাবে তাকে পদত্যাগের অনুরোধ করে বলা হয়, সেনা সদস্যরা জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে কাজ করতে পারবেন না।
বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে। বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগে—যেমন হত্যা, গুম, দুর্নীতি ও অর্থপাচার—সাবেক সরকারের বহু প্রভাবশালী মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্য কারাগারে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতাও ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
তবে বঙ্গবন্ধু পরিবারের অধিকাংশ সদস্য আগেই দেশ ত্যাগ করায় তাদের বিরুদ্ধে এখনো বড় কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গেছে কেবল একজনের—সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর পুত্র সেরনিয়াবাত মঈনউদ্দিন আবদুল্লাহকে। তাকে ২০২৪ সালের অক্টোবরে গ্রেপ্তার করা হয়।
সূত্র: খবরের কাগজ।স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর