প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ জুন, ২০২৫, ৭:৫৬ পিএম

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ঈদুল আজহার ছুটিতে মাত্র তিন দিনে ভিড় জমিয়েছেন আড়াই হাজারের বেশি পর্যটক। উদ্যানের বন্যপ্রাণী ও মিশ্র চিরহরিৎ বনানী দেখতে প্রতিবছরই পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। তবে অতিরিক্ত ভিড়ে বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিলুপ্তপ্রায় উল্লুক, বানর, হনুমানসহ নানা বন্যপ্রাণী এবং মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতেই পর্যটকেরা লাউয়াছড়া উদ্যানে ভিড় করেন। কমলগঞ্জের অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রের তুলনায় এখানেই ভিড় বেশি হয়। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবারের ঈদে ৭ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত তিন দিনে ২ হাজার ৫২৮ জন দর্শনার্থী টিকিট কেটে লাউয়াছড়ায় ঘুরেছেন। এতে রাজস্ব আয় হয়েছে ২ লাখ ৯০ হাজার ৭৭৭ টাকা ৫০ পয়সা।
স্থানীয়রা জানান, বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আনাগোনায় বনের বন্যপ্রাণীরা বাধার মুখে পড়ছে। দল বেঁধে দর্শনার্থীদের হইচই, যানবাহনের হর্ন ও নানা বাণিজ্যিক কার্যক্রম বনের স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৯৬ সালে জাতীয় উদ্যান ঘোষণার পর থেকে পর্যটকদের আগমন ধীরে ধীরে বেড়েছে। রেস্টহাউস, ইকো-কটেজ, স্টুডেন্ট ডরমিটরি এবং ইউএসএআইডি অর্থায়নে ব্যাখ্যা কেন্দ্র স্থাপনের ফলে এ আগ্রহ আরও বেড়েছে। তবে উদ্যানসংলগ্ন এলাকায় গাছপালা ও মাটি কেটে স্থাপনা গড়ে তোলায় বন্যপ্রাণীর চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাজু মারচিয়াঙ, আহাদ মিয়া এবং কয়েকজন পর্যটক জানান, অতিরিক্ত ভিড় ও যানবাহনের হুড়োহুড়িতে বন্যপ্রাণী দেখতে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। দলবদ্ধ পর্যটকদের হইচই এবং বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ঝুঁকিতে পড়ছে।
ঘুরতে আসা শহীদুর রহমান, জয়নাল আবেদীন, মাহফুজুর রহমান ও শেখ রিপন বলেন, বনের ভেতরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অতিরিক্ত মানুষের ভিড় মোটেই কাম্য নয়। এতে বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক বিচরণে বিঘ্ন ঘটছে।
এ বিষয়ে লাউয়াছড়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক বলেন, ঈদ উপলক্ষে সব সময়ই পর্যটক বাড়ে। ভিড়ে কিছুটা সমস্যা হলেও গাইডদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে পর্যটকেরা বন ও পরিবেশের ক্ষতি হয়—এমন কোনো আচরণ না করেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ