
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় ঢাবি চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী শাকিল আহমেদ (২৪) আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
মঙ্গলবার (১০ জুন) সকালে উপজেলার দক্ষিণ জামশা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
শাকিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি দক্ষিণ জামশা গ্রামের বাসিন্দা।
শাকিলের স্বজনরা জানিয়েছে, ফেসবুকে মহানবী হজরত মুহাম্মদকে (সা.) নিয়ে এক ব্যক্তির পোস্টে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। পরে সেটিকে ঘিরে স্থানীয় কিছু লোক তাকে হুমকি দেয় ও তার পরিবারকেও ভয়-ভীতি দেখায়। এই পরিস্থিতির কারণেই আত্মহত্যা করেছেন তিনি।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, শাকিল ফেসবুকে কটূক্তিমূলক মন্তব্য করেছিলেন। পরে সেটি ভাইরাল হলে পারিবারিক মানসম্মান ও আত্মোপলব্ধির কারণে আত্মহত্যা করেছেন।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌফিক আজম বলেন, ওই শিক্ষার্থী তার নিজ ফেসবুক আইডি থেকে হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর স্ত্রীদের নিয়ে কটূক্তির মন্তব্য করেন। সম্প্রতি পুরনো ওই মন্তব্য ভাইরাল হয়।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গিয়েছে, তিনি আত্মোপলব্ধি ও পারিবারিক মানসম্মানের কারণে আত্মহত্যা করেছেন।
ওসি জানান, মঙ্গলবার (১০ জুন) সকালে তার লাশ উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, আত্মহত্যার আগে সোমবার (৯ জুন) রাতে ফেসবুকে চারটি পোস্ট দিয়েছিলেন শাকিল। সর্বশেষ পোস্টে তিনি লিখেন, আমি নাস্তিক নই, গ্রামের সবাই আমাকে নাস্তিক বলছে। আমি জানি আর আমার আল্লাহ জানেন, আমি নবী মুহাম্মদকে কোনো কটূক্তি করিনি। আমাকে নিয়ে আমার বাবা অনেক গর্ব করতেন, গ্রামের সবাই আমাকে অনেক সম্মান করত।
তিনি আরো লিখেন, আজ আমি আমার নিজের আপন মানুষের কাছে আমার সম্মান হারিয়েছি। আগামীকাল আমার বাবা-মাকে সবাই অসম্মান করবে, এই লজ্জা আমি কখনো সহ্য করতে পারব না। আমি অনেক পাপ করেছি, আজ আর একটা শেষ পাপের জন্য প্রস্তুত হচ্ছি।
সিংগাইর থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাত-আট মাস আগে শাকিল ওই মন্তব্য করেন। পরে তা মুছে ফেলেন। সোমবার (৯ জুন) রাতে সেটি আবার ভাইরাল হয়। এরপর রাতে আশ-পাশের এলাকার কয়েকজন তার বাড়িতে গিয়ে তাকে ও পরিবারকে হুমকি দেয়। এরপর দিবাগত রাত ২টায় নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন শাকিল।
ঘটনার বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার (১০ জুন) দুপুরে শাকিলের বাবা নাসিরুদ্দিন আহমেদের মুঠোফোন নম্বরে কল করা হলে তার খালাতো বোন মুক্তা আক্তার তা ধরেন। তিনি বলেন, সোমবার (৯ জুন) রাত ৯টায় ফেসবুকের ওই কমেন্টকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ জামশা গ্রামসহ আশপাশের গ্রামের কয়েকশ লোক তাদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন হুমকি দেয়। এরপর রাত ২টায় বাড়িতে ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করে শাকিল।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইজেপি