
সংগৃহীত ছবি
বেশকিছুদিন থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হঠাৎ করে তাপপ্রবাহ দেখা দিয়েছে।
গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই গরম আজ মঙ্গলবারেও অব্যহত আছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামীকাল বুধবার কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও বেশ কয়েকটি অঞ্চলে গরমের এই প্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। বাংলাদেশে প্রতিটি ঋতুর রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য।
সবসময় একই ধরনের তাপমাত্রা থাকে না। ঋতুর পরিবর্তনের সঙ্গে তাপমাত্রারও তারতম্য ঘটে। তবে সমস্যা হয় তখন, যখন আমরা জানি ন-এই অতিরিক্ত গরমে আমাদের কী করা উচিত, কী খাওয়া উচিত, কী পরা উচিত, কিংবা কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলা উচিত। এই বিষয়টি মাথায় রেখে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)-এর একদল গবেষক কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।
চলুন জানা যাকঃউচ্চ তাপমাত্রা ৩৮° সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে ঝুঁকিতে আছেন যারা-শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা, ঘরের বাইরে কাজ করেন এমন মানুষ (যেমন: রিকশাচালক, নির্মাণ শ্রমিক), যাদের হাই ব্লাড প্রেসার, ডায়াবেটিস, হাঁপানি, হৃদরোগ, কিডনি রোগ আছে।
ঝুঁকি এড়াতে যা করণীয়ঃ১। প্রচুর পানি পান করুন, ঘন ঘন পানি খেতে বলুন।
২। বাইরে গেলে ছাতা ব্যবহার করুন।
৩। হালকা, ঢিলেঢালা ও সাদা/হালকা রঙের কাপড় পরুন।
৪। শিশুদের ঘন ঘন দুধ ও পানি দিন।
৫। দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত সূর্যের তাপে বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলুন।
যা করা যাবে নাঃ১। ভারি খাবার খাওয়া
২। গরমে ঘর বন্ধ করে রাখা
৩। শিশুকে একা রেখে যাওয়া
৪। অপ্রয়োজনে বাইরে যাওয়া
৫। গাড়ির মধ্যে দীর্ঘ সময় রাখা
তাপমাত্রা অনুযায়ী করণীয়ঃ(৩৮° সেলসিয়াস+) শিশু, অসুস্থ ও বৃদ্ধদের ঘরেই রাখুন, স্যাঁতসেঁতে কাপড় দিন।
(৩৫-৩৭°সেলসিয়াস) শিশু ও দুর্বলদের যত্ন নিন, ঠাণ্ডা পানি, ছায়া ও বিশ্রাম দিন।
(৩৩-৩৪°) সেলসিয়াস পানি খাওয়া বাড়ান, সূর্য এড়িয়ে চলুন।
(৩০-৩২°) সেলসিয়াস হালকা খাবার দিন, পানি ও ফলমূল খাওয়ান।
(২৮-২৯°) সেলসিয়াস ঘর ঠাণ্ডা রাখুন, হালকা কাপড় পরুন।
(২৫-২৭°সেলসিয়াস) শিশুদের পরিষ্কার কাপড় পরান, ঠাণ্ডা পরিবেশে রাখু্ন।
বিশেষ টিপসঃদিনে তাপমাত্রা বাড়লে অপ্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করুন। মোবইল ফোনে আবহাওয়ার আপডেট দেখে বাইরে বের হবার সিদ্ধান্ত নিন।