
সংগৃহীত ছবি
আইফোন হোক বা অ্যান্ড্রয়েড- প্রায় সব ফোনেই এই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। দুর্বল সিগন্যালের কারণে একদিকে যেমন কথা শোনা যায় না, তেমনি অনেক সময় উল্টো দিকের মানুষটিও আপনার কথা শুনতে পান না। মোবাইলের এই দুর্বল নেটওয়ার্ক আজকাল অনেকেরই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কয়েকটি সহজ উপায়ে আপনার মোবাইলের এই নেটওয়ার্ক সমস্যা ঠিক করা যায়ঃ
১. ফোনের নেটওয়ার্ক সেটিংস রিস্টার্ট করুন
যদি ফোনে এক বা দুই
দাগের সিগন্যাল আসে, একান্তই চেষ্টা করুন একবার পুরো নেটওয়ার্ক সেটিংস
খুলে সেটি রিস্টার্ট করার। তবে মনে রাখবেন, এটা করলে আপনার সেভ থাকা
ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড, আপনার পার্সোনালাইজড সেটিংস— সবই ডিলিট হয়ে যাবে।
কিন্তু ফোনের টাওয়ার খোঁজার চেষ্টা আবার নতুন করে শুরু হলে সেটা আপনার
আশেপাশে নেটওয়ার্কের ক্ষমতাকে বাড়াবে।
২. এয়ারপ্লেন মোড অন করে অফ করুন
আইফোন হোক বা অ্যান্ড্রয়েড— দুই
ফোনেই এটাই সবচেয়ে সহজ ও কার্যকরী উপায় দুর্বল নেটওয়ার্ক ঠিক করার। অন্তত
১৫ সেকেন্ডের জন্য এয়ারপ্লেন মোড অন করে রাখবেন। এরপর আবার অফ করলেই
আপনার মোবাইল টাওয়ার খোঁজার কাজ শুরু করে দেবে। এভাবে কিছুটা হলেও
নেটওয়ার্ক সমস্যা মিটবে।
৩. পুরনো সিম কার্ড বদলে ফেলুন
আপনার ফোন যদি বেশ অনেক দিনের
পুরোনো হয় তাহলে সিম ট্রে খুলে সিম কার্ড বের করে একটু নরম কাপড়ে মুছে
আবার ফোনে ঢোকান। পুরনো সিম একটানা ব্যবহার করা উচিত নয়। একদম লেটেস্ট
ফাইভ জি সিম ব্যবহার করবেন। পুরনো সিম কার্ডের ক্ষমতা কম। নতুন আধুনিক সিম
কার্ড অনেক বেশি টাওয়ার স্ট্রেন্থ বহন করতে পারে।
৪. এয়ারপ্লেন মোড অন-অফ করেও লাভ না হলে ফোন রিস্টার্ট করুনফোন রিস্টার্ট হলে অনেক সময় টাওয়ার-জনিত সমস্যা প্রাথমিকভাবে কেটে যায়। সিগন্যাল স্ট্রেন্থ বাড়ে। ফোনের অনেক বেসিক সমস্যা রিস্টার্ট করলে মিটে যায়। অনেক সময় ফোন স্লো হয়ে গেলে বা হ্যাং হয়ে গেলেও ফোনকে কিছুক্ষণ অফ রেখে আবার অন করা উচিত। এতে ফোনের নিজস্ব সফটওয়্যার নিজে থেকেই রিবুট হয় ও ইন্টারনাল সমস্যাকে ধরে ফেলে প্রস্তুতকারক সংস্থার কাছে রিপোর্ট পাঠায়।
৫. মোবাইল ক্যারিয়ারের সেটিংস বদলাতে হতে পারে
অনেক জায়গায় এখনও ৫জি
পরিষেবা ভালোভাবে চালু নেই। কিন্তু ফোনের যে ক্যারিয়ার রয়েছে, তার
সেটিংসে হয়তো ৫জি অন রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে ৫জি টাওয়ার খুঁজতে ফোন নিরন্তর
চেষ্টা করে চলে, আর এতে তার ব্যাটারি ও ফোনের স্বাস্থ্য—দুই-ই কমতে থাকে।
সবসময় ক্যারিয়ার সেটিংসকে বেস্ট কম্প্যাটেবল রাখবেন। খেয়াল রাখবেন,
আপনার ফোনের ক্যারিয়ার সংস্থা অনেক সময় আপনাকে মেসেজের মাধ্যমে আপনার
জন্য সেরা সেটিংসটি পাঠায়। সেটা অ্যাকসেপ্ট করে অন রেখে দেওয়াই সবচেয়ে
বুদ্ধিমানের কাজ। সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে ফোনকে আপডেটেড রাখুন।
উল্লেখ্য, জরুরি ভিত্তিতে বা বিপদে পড়লে উপরের এই টোটকাগুলো আপনাকে সাময়িক সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।
এছাড়া আরো জরুরী কোনো সমস্যা দেখা দিলে অপারেটরদের পরামর্শ নিতে হবে। সূত্র- টিভি ৯ বাংলা