প্রকাশ: রবিবার, ৮ জুন, ২০২৫, ১১:৫৪ AM

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বেজুড়া গ্রামে দীর্ঘদিনের আধিপত্য ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের জের ধরে ঈদের দিন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৭ জুন) সন্ধ্যার দিকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫০–৬০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন মাধবপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুনও। আহতদের মধ্যে অনেককে মাধবপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সংঘর্ষ শুরু হয় মাসুদ খাঁন ও বেনু মিয়ার আধিপত্য বিস্তারের অশান্তির কারণে। ঈদের বিকেলের দিকে সালিশ বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর, সশস্ত্র এক গ্রুপ অন্য গ্রুপের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। দুই পক্ষই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করে লড়ে, যার ফলে পরিস্থিতি কয়েক ঘণ্টা উত্তপ্ত থাকে।
ঘটনাস্থলে জরুরি ভিত্তিতে পুলিশ মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। মাধবপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে; তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সংঘর্ষে কোথাও রাবার বুলেট ছোড়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
দীর্ঘ বছর ধরে জগদীশপুর ইউনিয়নের বেজুড়া গ্রামে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এই সংঘর্ষে পূর্বে হত্যাকান্ড ও একাধিক মামলা রয়েছে, যার প্রেক্ষিতে দুই মাস আগে প্রশাসনের উদ্যোগে সালিশি বৈঠক আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু ঈদের দিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ উদ্বিগ্ন। মাধবপুর থানার ওসি আল মামুন বলেন, “এ ধরনের ঘটনা গ্রামে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে, তাই শান্তি ফিরাতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আরও যৌথ উদ্যোগ জরুরি”।
ঘটনায় কেউ নিহত না হলেও, এটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষ বন্ধে প্রশাসনের সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট করেছে। বনিবনা ও ক্ষমতার জন্য গ্রামীণ সংঘর্ষ নতুন নয়, কিন্তু ঈদের মতো পবিত্র দিনে এ ধরনের সহিংসতা সামাজিক স্বাভাবিকতা ও ধর্মীয় ভাবাবেগকে আঘাত দিয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর