
সুদানে চলমান গৃহযুদ্ধে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত দেশ ছেড়ে পালিয়েছে ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ। এই বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা বিশ্বব্যাপী এক ধ্বংসাত্মক মাইলফলক বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর।
মঙ্গলবার (৪ জুন) জেনেভায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মুখপাত্র ইউজিন বাইউন বলেন, ‘এই ভয়াবহ বাস্তবতা যদি চলতেই থাকে, তাহলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে উঠবে।’
সুদানের নিয়মিত সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ক্ষমতার লড়াইয়ে গৃহযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং দেশটিতে বিশ্বের বৃহত্তম ক্ষুধা ও বাস্তুচ্যুতির সংকট তৈরি হয়েছে।
জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র ইউজিন বাইউন বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৪০ লাখ মানুষ সুদান থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে পালিয়ে গেছে। এ যুদ্ধ এখন তৃতীয় বছরে গড়িয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিকর বাস্তুচ্যুতি সংকটের ক্ষেত্রে এটি একটি ধ্বংসাত্মক মাইলফলক।
তিনি বলেন, যদি এ সংঘাত অব্যাহত থাকে, তাহলে আরও হাজার হাজার মানুষ পালিয়ে যেতে থাকবে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
ইউএনএইচসিআরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সোমবার পর্যন্ত ৪০ লাখ ৩ হাজার ৩৮৫ জন শরণার্থী, আশ্রয় প্রার্থী ও প্রত্যাবর্তনকারী হিসেবে সুদান থেকে পালিয়ে এসেছেন।
এর মধ্যে মিশরে পালিয়েছে ১৫ লাখ। ১১ লাখের বেশি দক্ষিণ সুদানে গেছেন, তাদের মধ্যে আট লাখ প্রত্যাবর্তনকারী, যারা নিজেরাও সুদানে শরণার্থী ছিলেন।
ইউএনএইচসিআর পূর্ব শাদে একটি গভীরতর মানবিক জরুরি অবস্থা বর্ণনা করেছে, যেখানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সুদানি শরণার্থীর সংখ্যা তিনগুণেরও বেশি বেড়েছে।
সংঘাত শুরু হওয়ার আগে দেশটি চার লাখের বেশি সুদানি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছিল। এখন এ সংখ্যা ১২ লাখ ছাড়িয়েছে।
শাদে ইউএনএইচসিআরের প্রধান পরিস্থিতি সমন্বয়কারী দোসো প্যাট্রিস আহোয়ানসো বলেছেন, এটি তাদের প্রতি শাদের সাড়া দেওয়ার ক্ষমতার ওপর অস্থিতিশীল চাপ সৃষ্টি করছে।
তিনি বলেন, সুদানের উত্তর দারফুর অঞ্চলে সহিংস হামলার পর এপ্রিলের শেষের দিক থেকে সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশ শুরু হয়েছে। বাস্তুচ্যুত শিবিরগুলোতেও হামলা হয়েছে।
চাডে ইউএনএইচসিআর-এর প্রধান দোসো প্যাট্রিস আহোয়ানসো বলেন, ‘শুধু এপ্রিলের শেষ দিক থেকে এখন পর্যন্ত সীমান্ত পেরিয়ে এসেছে ৬৮ হাজার ৫৫৬ জন। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১,৪০০ মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করছে।’
আহোয়ানসো জানান, চাডের ওয়াদি ফিরা ও এননেদি এস্ট অঞ্চলে আশ্রয় নেওয়া মানুষরা ভয়াবহ অবস্থায় আছে। “মানুষ বাস করছে খুবই অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ আশ্রয়ে। তারা নিরাপত্তাহীনতা, খাবার ও পানির চরম সংকটে ভুগছে।”
ইউএনএইচসিআর বলছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এখনই মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। জরুরি তহবিল না বাড়ালে শরণার্থীদের জীবন রক্ষাকারী সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
বর্তমানে সুদানে সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করছে উত্তর, পূর্ব ও কেন্দ্রীয় অঞ্চল, আর RSF ও তাদের মিত্ররা দখলে রেখেছে দারফুর ও দক্ষিণের অধিকাংশ এলাকা।
সূত্র: আরব নিউজ, রয়টার্স
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম