প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ জুন, ২০২৫, ১১:৩৮ পিএম

প্রতীকী ছবি
দেশের ব্যাংক খাতে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চ শেষে এক কোটি টাকার বেশি জমা রয়েছে—এমন হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টি। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২২ হাজার ৮১টি। অর্থাৎ তিন মাসে কোটিপতি হিসাব কমেছে ৭১৯টি।
বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের ফলে বড় অঙ্কের অনেক ব্যাংক হিসাব জব্দ ও তলব করা হয়েছে। এতে উচ্চমূল্যের আমানতকারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। অনেকেই নিরাপত্তাজনিত কারণে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন বা স্থানান্তর করছেন। এর ফলে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা কমে এলেও কিছু নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে আমানতের পরিমাণ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে কোটিপতি হিসাবগুলোর মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। ২০২৫ সালের মার্চ শেষে এই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৮৩ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকায়। অর্থাৎ তিন মাসে কোটিপতি হিসাবগুলোতে মোট আমানত বেড়েছে প্রায় ৮ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা।
এদিকে সার্বিকভাবে ব্যাংক হিসাব ও আমানতের পরিমাণ বেড়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশে ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৩২ লাখ ৪৭ হাজার ৫৩২টি, যা ২০২৫ সালের মার্চ শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ৫৭ লাখ ৬৮ হাজার ৮২১টিতে। একই সময়ে মোট আমানতের পরিমাণ ১৮ লাখ ৮৩ হাজার ৭১১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৯ লাখ ২৩ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোটিপতি হিসাব বলতে কেবল ব্যক্তি মালিকানাধীন হিসাব বোঝায় না। এসবের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংস্থা এবং কোনো একজন ব্যক্তির একাধিক হিসাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে হিসাবের সংখ্যা কমে এলেও ব্যক্তি কোটিপতির সংখ্যা কমেছে—এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় না।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যে দেখা যায়, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি হিসাব ছিল মাত্র ৫টি। ১৯৭৫ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৭টিতে। ১৯৮০ সালে ছিল ৯৮টি, ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি এবং ২০০৮ সালে তা দাঁড়ায় ১৯ হাজার ১৬৩টিতে। ২০২০ সালের শেষে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা ছিল ৯৩ হাজার ৮৯০টি, যা ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টিতে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ২২ হাজার ৮১টি, যা ২০২৫ সালের মার্চে কিছুটা কমে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টিতে নেমে এসেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর