প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ জুন, ২০২৫, ৪:৫২ পিএম

বিজিবি-বিএসএফের মানবিকতায় শেষবারের মতো সীমান্তের শূন্যরেখায় মায়ের মুখ দেখলেন বাংলাদেশে বসবাসকারী দুই মেয়ে। এতে ভারতে বসবাসরত
মৃত মায়ের মরদেহ দেখার সুযোগ করে দিয়ে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সীমান্তের চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)।
মঙ্গলবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় শান্তিপূর্ণভাবে দেখানো হয় মরদেহ।
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) পরিচালক লে. কর্নেল নাজমুর হাসান জানান, মৃত লোজিনা বেগম (৮০) একজন ভারতীয় নাগরিক। তিনি বিজিবির অধীন জগন্নাথপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্তের মেইন পিলার ৯৬/৮-এস এর বিপরীতে ১৬১ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের গোংরা বিএসএফ ক্যাম্পের আওতাধীন ভারতের অভ্যন্তরে বাস করতেন। তার স্বামী ফকির চানকে নিয়ে নিজ বাড়িতে থাকাকালীন শারীরিক অসুস্থতার ফলে মৃত্যু হয়।
ওই ভারতীয় নাগরিকের মেয়েসহ নিকটাত্মীয় জগন্নাথপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা বাংলাদশের জয়পুর গ্রামে স্থায়ীভাবে বাস করে আসছিলেন বলে জানান কর্নেল নাজমুর। পরে ভারতীয় ভূখণ্ডে মৃত্যুবরণকারী মাকে দেখতে বাংলাদেশে বিবাহসূত্রে বসবাসরত মেয়েরা শেষ দর্শনের অনুরোধ জানায়। তারই প্রেক্ষিতে বিজিবি-বিএসএফের সমন্বয়ে মৃতের নিকট স্বজনদের উপস্থিতিতে মঙ্গলবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় সীমান্তে শূন্য লাইনে শান্তিপূর্ণভাবে দেখানো হয় মরদেহ।
প্রসঙ্গত, মৃত লোজিনা বেগম জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক। স্বামীর সাথে ভারতে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। লোজিনা বেগম রেখে গিয়েছেন ৪ ছেলে ও ৪ মেয়ে। বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। সোমবার (২ জুন) রাতে নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। বিবাহসূত্রে স্বামী সন্তান নিয়ে বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন মৃতের ২ মেয়ে।
বিজিবি সীমান্তের নিরাপত্তা এবং আস্থার প্রতীক উল্লেখ করে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার আরো জানান, সীমান্তে শান্তি, সম্প্রীতি এবং উভয়ই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সুসম্পর্ক উন্নয়নের অগ্রযাত্রার অংশ হিসেবে বিজিবি-বিএসএফের এ ধরণের মানবতামূলক কার্যক্রম উভয়ই দেশের সীমান্তবর্তী জনগণের মধ্যে সুম্পর্ক উন্নয়নে
সাহায্য করবে। এটি ভবিষ্যতে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে কাজ করবে মাইলফলক হিসেবে।
এছাড়াও উভয়ই সীমান্তে ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সীমান্ত অপরাধ হ্রাস পাবে বলে আশা করা যায়।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইজেপি