
সংগৃহীত ছবি
গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় কমপক্ষে ৫১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৫০৩ জন। সোমবার (২ জুন) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফাহসহ বিভিন্ন এলাকায় সহায়তা বিতরণ কেন্দ্রের কাছে জড়ো হওয়া ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থাগুলো। এতে শুধু গতকালই খাদ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৫ জন, যা ২৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত নিহত সহায়তা প্রার্থীর সংখ্যা ৭৫-এ পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন ৪০০ জনের বেশি।
রাফাহর একটি সহায়তা বিতরণ কেন্দ্রে নিহত হন ৬ সন্তানের জনক হুসাম ওয়াফি। তাঁর ভাই বলেন, “আমাদের বলা হয়, যাও, খাবার-দাবার নিয়ে আসো। আর যখন তা আনতে যাই, তখনই আমাদের হত্যা করা হয়।” প্রতিবেশী আবু ইউসুফ বলেন, “ওরা শুধু এক ক্যান ছোলা বা কিছু খাবার আনতে গিয়েছিল, আর গুলি খেয়ে মরে গেল।”
উত্তর গাজায় জাবালিয়া অঞ্চলের আল-বারাশ পরিবারবাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ১৪ জন, যাদের মধ্যে ৬ জন শিশু ও ৩ জন নারী। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও ২০ জনের বেশি মানুষ আটকা পড়ে আছেন বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স।
এছাড়া গাজার কেন্দ্রীয় শহর দেইর আল-বালাহতে একটি মসজিদ ও আশেপাশের আবাসিক এলাকাও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেখানে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা শুধু ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেই হামলা চালায়। তবে বাস্তবতা হলো, নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
এদিকে, ইসরায়েল গাজার একমাত্র কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ‘নোরা আল-কাবি’ ধ্বংস করে দিয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি ও ওষুধ সংকটে প্রায় সব হাসপাতাল বন্ধ হওয়ার পথে।
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, “মানুষকে যদি খাদ্য নিতে গিয়ে জীবন দিতে হয়, তবে তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।”
ইতোমধ্যে ইউএনআরডব্লিউএ (UNRWA) জানিয়েছে, গাজায় খাদ্য বিতরণের জন্য সীমান্ত খুলে দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ করিডোর দরকার, যেটা তারা যুদ্ধবিরতির সময় পেয়েছিল। সংস্থাটির প্রতিনিধি স্যাম রোজ বলেন, “মানুষকে এখন পশুর মতো খাঁচায় বন্দি করে রাখা হয়েছে। বিশ্ব যদি এখনও জাগে না, তাহলে আমাদের আর কিছু বলার নেই।”
জার্মান সরকার পশ্চিম তীরে নতুন বসতি স্থাপনের ইসরায়েলি পরিকল্পনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, “এটি দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের বিরুদ্ধে যায়।”
এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, “গাজার পরিস্থিতি প্রতিদিনই আরও খারাপ হচ্ছে।” তিনি জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
গাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে মেডসঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের (MSF) জানায়, তাদের কর্মীরা খানের ইউনুসের নাসের হাসপাতালে চরম সংকটের মধ্যে কাজ করছেন। হাসপাতালের চারপাশে ইসরায়েলি বাহিনী প্রাচীর গুঁড়িয়ে বুলডোজার দিয়ে অভিযান চালাচ্ছে।
ইতোমধ্যে হামাসের সামরিক শাখা কাসাম ব্রিগেড জানিয়েছে, তারা গাজার দক্ষিণাঞ্চলের আল-কারারায় ইসরায়েলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে মর্টার শেল ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর বোল্ডার শহরে গাজায় ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এক সমাবেশে আগুন লাগানোর চেষ্টা করা হয়। এতে ৮ জন আহত হন। সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এফবিআই এটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে তদন্ত করছে।
গাজায় ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর থেকে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪,৪৭০ জনে এবং আহত হয়েছেন ১,২৪,৬৯৩ জন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ