
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্রায় ১০০ মিটার সড়ক ভেঙে গেছে। এতে করে অন্তত ৮ গ্রামের হাজারো মানুষকে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ঠিকাদারের গাফিলতি এবং অসম্পূর্ণ কাজের কারণে এমন ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। এ বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় আলোচনায় এলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটি কাদা-পানিতে ডুবে যায় আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলায় পরিবেশ নষ্ট হয়। এতে প্রতিদিনই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পথচারী, শিক্ষার্থী, রোগী ও যানবাহনচালকদের।
বুধবার (২৮ মে) সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, তুরারোডের ৩ নম্বর ব্রিজ থেকে খাটিয়ামারীর আব্দুল কাদেরের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার রাস্তা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে পাকা করা হলেও মাঝখানের প্রায় ১০০ মিটার অংশে কোনো কাজই হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই এই অংশে পানি জমে কাদায় পরিণত হয়।
নওদাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা মো. নুরুল ইসলাম বলেন, “শুকনা মৌসুমে ধুলায় হাঁটাও যায় না, আবার বৃষ্টি হলে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। এতটুকু রাস্তা না করায় আমাদের সীমাহীন কষ্ট হচ্ছে।”
অটো চালক গোলজার হোসেন বলেন, “সেই ভাঙা অংশটুকুই কয়েকদিন আগে পাহাড়ি ঢলে সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। এখন গাড়ি নিয়ে পার হতে পারছি না।”
অটোভ্যানচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “এই রাস্তায় স্কুলগামী শিশুদের আনা-নেওয়া করি। রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আর শিক্ষার্থীরাও পড়ে যায় নানা ভোগান্তিতে।”
প্রভাষক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেলে যাতায়াত করি। এতটুকু রাস্তার কাজ না করে ফেলে রাখায় ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।”
রৌমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “চার কিলোমিটার রাস্তা পাকা হলেও মাঝখানের এতটুকু অংশ কেন করা হয়নি, বুঝতে পারিনি। এ নিয়ে প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে, তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।”
এ বিষয়ে রৌমারী উপজেলা প্রকৌশলী মুনছুরুল ইসলাম বলেন, “ওই রাস্তার জন্য ইতোমধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ