
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত ঐতিহাসিক পীর শাহজামান দীঘির বর্তমান অবস্থা উদ্বেগজনক। প্রায় ৩৫০ বছর আগে ১৬৬৮ সালে খননকৃত এই দীঘিটি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দীঘির চারপাশে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট ও পরিবেশ দূষণ দীঘির ঐতিহ্য এবং পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্রিটিশ শাসনামলে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর উদ্যোগে আদালতে প্রমাণসহ দীঘিটি পুনরুদ্ধার হলেও বর্তমানে দীঘির দক্ষিণ সীমানায় প্রধান ফটক থেকে দ্বিতীয় ফটক পর্যন্ত বাঁশ-খুঁটি পুঁতে অবৈধ দোকান নির্মাণ করা হয়েছে, যা ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য নষ্ট করছে এবং দীঘির পানির দূষণ বাড়াচ্ছে।
আজ রোববার (২৫ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে। মিছিল ২য় গেট ও ১ম গেট হয়ে ক্যাম্পাসের সামনে শেষ হয় এবং পরবর্তীতে তারা ভাইস-চ্যান্সেলর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।
ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ বলেন, ‘আমরা ক্যাম্পাসের স্থাপনা ও পরিবেশ উন্নয়নের জন্য কাজ করছি এবং শিক্ষার্থীদের দাবি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করব।’
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ফোরকান হোসেন বলেন, ‘দীঘির চারপাশের অবৈধ দোকান সরিয়ে পানি ও পরিবেশ সুরক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’
সিপিএস বিভাগের আখতারুজ্জামান সাজু বলেন, ‘৩৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই দীঘির সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। আমরা চাই অবৈধ দোকানপাট সরিয়ে দীঘির সংস্কার করা হোক।’
গণিত বিভাগের সাইদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ‘দীঘিটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অবৈধ স্থাপনা অপসারণ ও দীঘির পরিবেশ সংরক্ষণে দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।’
শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপিতে পাঁচ দফা দাবি করা হয়েছে:-
১. দীঘির চারপাশে বাঁধ নির্মাণ ও হাঁটার উপযোগী রাস্তা তৈরি করা।
২. বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানায় প্রধান ফটক থেকে দ্বিতীয় ফটক পর্যন্ত প্রাচীর নির্মাণ।
৩. পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা।
৪. ময়লা ফেলার জন্য নির্ধারিত স্থান স্থাপন।
৫. দীঘির ইতিহাস ও গুরুত্ব তুলে ধরার জন্য স্থায়ী প্রচারপত্র বা ফলক স্থাপন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে পীর শাহজামান দীঘির ঐতিহ্য ও পরিবেশ রক্ষা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম