বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
৫ জন শিক্ষক কুবির ফার্মেসি বিভাগে, সেশনজটের শঙ্কা
কুবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২১ মে, ২০২৫, ৭:৪২ পিএম

চরম শিক্ষক সংকটে ভুগছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের-(কুবি) ফার্মেসি বিভাগ। এই বিভাগের সাতটি ব্যাচের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মিলিয়ে মোট শিক্ষার্থী রয়েছেন ২২৮ জন। কিন্তু ২২৮ শিক্ষার্থীর বিপরীতে পাঠদানে নিয়োজিত রয়েছেন ৫ জন শিক্ষক। বিভাগের শিক্ষার্থী-শিক্ষক অনুপাত ৪৬ঃ০১ অর্থাৎ ৪৬ শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র ১ জন শিক্ষক পাঠদানে নিয়োজিত, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের দ্বিগুনেরও বেশি। 

এদিকে সেশনজট নিরসনে বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত টিচিং লোড নিতে হচ্ছে বিভাগের শিক্ষকদের। একজন শিক্ষককে বাধ্য হয়েই একাধিক আবর্তনে একাধিক কোর্স নিতে হচ্ছে। ফলে সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে ল্যাব ওরিয়েন্টেড এই বিভাগটিতে। এদিকে ২০১৩ সালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ১২ বছর পার হলেও বিভাগটিতে কোন অধ্যাপক নেই। ফলে গুন-মানের শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বিভাগটির শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভাগের ১২ জন শিক্ষকের মধ্যে শিক্ষা ছুটিতে আছেন ৭ জন। তার মধ্যে বর্তমানে বিভাগে পাঠদানে নিয়োজিত রয়েছেন ৫ জন শিক্ষক। তারা হলেন—বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. প্রদীপ দেবনাথ, সহযোগী অধ্যাপক ড.জান্নাতুল ফেরদৌস,সহকারী অধ্যাপক জয় চন্দ্র রাজবংশী,সহকারী অধ্যাপক হালিমা আক্তার ও প্রভাষক মো. কামরুল হাসান। বিভাগটিতে সর্বশেষ শিক্ষা ছুটির বিপরীতে ২০২১ সালের ১ নভেম্বর ২ জন প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হয়। এরই মধ্যে ২০২৪ সালের ৬ জুলাই বিভাগের প্রভাষক বিদুৎ কুমার সরকার চাকরি থেকে রিজাইন দিয়ে অন্যত্র যোগদান করেন। এরপর গত সাড়ে তিন বছরে চরম শিক্ষক সংকট থাকা সত্ত্বেও বিভাগটিতে কোন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। 

বিভাগটির শিক্ষকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, বিভাগের শিক্ষক সংকট নিরসনে সম্প্রতি উপাচার্যের সাথে কথা হয়েছে । যদি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন নিয়োগের জন্য অনুমতি দেয়, তাহলেই বিভাগটির শিক্ষক সংকট নিরসন করা সম্ভব। নয়তো এভাবেই চলতে হবে।

২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সুমাইয়া আক্তার বলেন, "বর্তমানে আমাদের রানিং ব্যাচ ৭টি কিন্তু শিক্ষক মাত্র ৫ জন। শিক্ষকদের পর্যাপ্ত ক্লাস পাওয়া রীতিমতো অসম্ভব। শিক্ষকরা ব্যস্ততার কারণে আমাদের সময় দিতে পারছেন না। যে স্বপ্ন নিয়ে এ বিভাগে ভর্তি হয়েছি তা আজ প্রশ্নবিদ্ধ। "

একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সুমন বলেন, 'ফার্মেসি বিভাগের বর্তমানে রানিং ৭টা ব্যাচ এবং আরও একটি ব্যাচ আসছে। কিন্তু আমাদের শিক্ষক সংখ্যা মাত্র ৫ জন। যার জন্য প্রতিদিনকার ক্লাসগুলো সময়মতো করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমাদের মধ্যে সেশনজটের একটি আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমাদের একটাই চাওয়া যেন শিগগিরই বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ করে পাঠদান দ্রুত গতিতে চলতে পারে।"

বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. প্রদীপ দেবনাথ বলেন, " বিভাগের ১২ জন শিক্ষকের মধ্যে ৭ জন শিক্ষা ছুটিতে আছে। শিক্ষার্থীরা এ সমস্যা নিয়ে আমাদের কাছে এসেছিল। এ বিষয়ে আমরা একটি মিটিং করবো তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সম্প্রতি উপাচার্য স্যারের সাথে বিভাগের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে শিক্ষক সংকট নিয়ে আলোচনা হয়। উপাচার্য স্যার আমাদের অপেক্ষা করার জন্য অনুরোধ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে বারবার চিঠি দেওয়ার পরও সেখান থেকে বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের কোনো পোস্ট আসেনি। আমরা চেষ্টা করছি অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার ঠিক রাখার জন্য। আমি এখানে ডিন হিসেবে আছি আমার কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, ভিসি স্যারেরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। সেই সীমাবদ্ধতার জায়গা থেকে বেরিয়ে গিয়েতো কিছু করতে পারবো না।"

 এ বিষয়ে কুবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, "৭টি ব্যাচে মাত্র ৫ জন শিক্ষক দিয়ে লেখাপড়া করানো কোনোভাবেই সম্ভব না। সারাদিন ক্লাস নিলে কোন রকম শুধু ক্লাসটাই নিতে পারবে। খাতা দেখা, রেজাল্ট পাবলিশ করা, রিসার্চ করা অসম্ভব। এখন যে নতুন নিয়ম আসছে এতে ইউজিসি থেকে শিক্ষক নিয়োগের অনুমতি আসছে না এবং ঐ ডিপার্টমেন্টের অনেকগুলো শিক্ষক বিদেশে পড়াশোনা করতে গিয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার জন্য। সরকার অনুমতি দিলেই আমরা শিক্ষক নিয়োগ দিবো। সরকার যে কয়টা পদের অনুমোদন দেয় সেই কয়টাই দেয়। তাই সরকার অনুমোদন না দিলে আমরা শিক্ষক নিয়োগ দিলে সরকার টাকা দিবে না।"

স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close